লিমন-বৃষ্টি হত্যা: অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহর মৃত্যুদণ্ড চাইবেন প্রসিকিউটর

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামি হিশাম সালেহ আবু আবুগারবিয়েহর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইনে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘অ্যাগ্রাভেটিং ফ্যাক্টর’ বা গুরুতর উপাদান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

আজ শুক্রবার ফ্লোরিডার স্থানীয় গণমাধ্যম টাম্পাবে২৮ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের একদিন পর স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আসামি হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমনকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি হত্যার অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ, অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানো বা গোপন করার দুটি অভিযোগ এবং মৃত্যু গোপনের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা মেডিকেল পরীক্ষককে অবহিত না করার দুটি অভিযোগ।

আগামী ১৮ মে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় হিলসবরো কাউন্টি আদালতে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গত এপ্রিলে নিখোঁজ হন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী বৃষ্টি ও লিমন। লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধারের পর ২৪ এপ্রিল শনাক্ত করার কথা জানায় স্থানীয় পুলিশ। এরপর ২৬ এপ্রিল বৃষ্টির দেহাবশেষ পাওয়া গেলেও তা শনাক্ত করা হয় ৩০ এপ্রিল।

 

স্বীকারোক্তি না থাকলেও তথ্য-প্রমাণ শক্তিশালী

হিলসবরো কাউন্টিতে আট বছর প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করা আইনজীবী জ্যানি থমাস টাম্পাবে২৮কে বলেন, গ্র্যান্ড জুরির কাজ অভিযুক্ত দোষী কি না তা নির্ধারণ করা নয়, বরং অভিযোগ গঠনের মতো যথেষ্ট প্রমাণ আছে কি না তা যাচাই করা।

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় প্রমাণগুলো অনেকটাই পরিস্থিতিভিত্তিক। মরদেহ ভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসন্ধান, রুমমেটের সঙ্গে সম্পর্ক—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে স্বীকারোক্তি না থাকলেও প্রসিকিউশনের অবস্থানকে শক্তিশালী বলে মনে করেন তিনি।

থমাস বলেন, আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে সোয়াট টিমের সহায়তা নিতে হয়েছিল। মূলত তাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে আনতে হয়েছিল। প্রসিকিউটর হিসেবে আমি বলব—এটা তার অপরাধী মনোভাবের ইঙ্গিত।

তবে মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয় থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন থমাস। তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য সংগ্রহে সমন জারি করতেও দীর্ঘ সময় লাগে।’

তার মতে, যদি পরিবার দ্রুত বিচার বলতে দ্রুত সাজা কার্যকর বোঝায়, তাহলে মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মামলা দ্রুত শেষ হয়। কারণ ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের মামলায় রায়ের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপিলের সুযোগ থাকে। যার ফলে চূড়ান্ত সাজা কার্যকর হতে ১০ বছর বা তার বেশি সময় লেগে যেতে পারে।