৭ বছর পর ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ফ্লাইট চালু

স্টার অনলাইন ডেস্ক

সাত বছর স্থগিত থাকার পর আবারও ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। 

গতকাল বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। 

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি প্রাদেশিক সহযোগী সংস্থা এনভয় এয়ার পরিচালিত ফ্লাইট এএ৩৫৯৯ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা বেজে ১১ মিনিটে মায়ামি ছেড়ে কারাকাসের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রায় ৩ ঘণ্টা পর সেটি কারাকাসে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ফ্লোরিডায় ফিরে যায় ফ্লাইটটি। 

আগামী ২১ মে থেকে দিনে দুইটি করে ফ্লাইট চালু করবে এনভয় এয়ার।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন-কারাকাসের সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। 

জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অপহরণ করে মার্কিন সেনাবাহিনী। সে সময় থেকে ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সেই প্রক্রিয়ার হাত ধরেই সাত বছর পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি এবং নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলো। 

২০১৯ সালের পর থেকে এতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনেজুয়েলা আসার জন্য অন্যান্য দেশ হয়ে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হোত যাত্রীদের। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানায়, ‘প্রায় সাত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কোনো সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু ছিল না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আজ আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পেরেছি। মায়ামি ও কারাকাসের মধ্যে ফ্লাইট চালু হয়েছে।’

মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ছোট একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফ্লাইট আবারো চালু করে। এ সময়ে বিমানবন্দরের বহির্গমন গেট ভেনেজুয়েলার পতাকা ও পতাকার হলুদ, নীল অ লাল রঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। 

ফ্লাইটে যাত্রীদের ভেনেজুয়েলার প্রথাগত খাবার কফি ও আরেপা পরিবেশন করা হয়। 

Arepas Stuffed with Cheese
কফি ও আরেপা। ছবি: সংগৃহীত

৭৫ জন যাত্রী ধারণে সক্ষম একটি এমব্রায়ার ই১৭৫ জেটবিমানের মাধ্যমে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। 

যাত্রীরা উৎফুল্ল থাকলেও অনেকেই টিকিটের উচ্চ মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, মার্কিন ভিসা পাওয়ার কঠোর বিধিরও সমালোচনা করেন কেউ কেউ.

উড়োজাহাজ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে মে মাস থেকে মায়ামি-কারাকাস রিটার্ন ফ্লাইটের দাম এক হাজার ২০০ ডলারেরও (বাংলাদেশি টাকায় দেড় লাখ) বেশি। 

অপরদিকে, কলম্বিয়ার বোগোতা হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ৯০০ ডলারে কারাকাস পৌঁছানো যায়। 

২০১৯ সালের স্থগিতাদেশ চালুর আগে মায়ামি-কারাকাস রুটে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলোই শুধু সচল ছিল। এর দুই বছর আগেই ডেল্টা ও ইউনাইটেড তাদের ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছিল।