এসকোবারের জলহস্তীদের ভারতে আনতে চান অনন্ত আম্বানি
কলম্বিয়ায় ছেড়ে দেওয়া মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের জলহস্তীগুলোকে হত্যার হাত থেকে বাঁচাতে চান ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি।
প্রাণীগুলোকে ভারতে নিয়ে যেতে আজ মঙ্গলবার কলম্বিয়া সরকারের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানায় বার্তাসংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কলম্বিয়ার নদ-নদীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে জলহস্তীগুলোকে নিধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তই স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন অনন্ত।
বৈজ্ঞানিক তদারকিতে ৮০টি জলহস্তীকে নিরাপদে গুজরাটের ভান্তারা প্রাণী কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। ভান্তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র বলে দাবি করা হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভান্তারায় ইতিমধ্যে শত শত হাতির পাশাপাশি রয়েছে ৫০টি ভালুক, ১৬০টি বাঘ, ২০০টি সিংহ, ২৫০টি চিতা আর ৯০০টি কুমির। তবে এত বিপুলসংখ্যক ও বিরল প্রজাতির প্রাণী এখানে আনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলহস্তীগুলোর ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকে এসকোবার নিজেই আফ্রিকা থেকে এদের কলম্বিয়ায় নিয়ে আসেন। তার মৃত্যুর পর প্রাণীগুলো মাগদালেনা নদী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয়দের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। জেলেদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নিধনের পথে হাঁটে কলম্বিয়া সরকার।
অনন্ত আম্বানি জানান, প্রাণীগুলোর জন্য নতুন আবাস গড়ে তোলার বিস্তারিত পরিকল্পনা ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। পশুচিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদেরকে নিরাপদে পরিবহন করা হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে বসবাসের জায়গা তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনন্ত আম্বানি এএফপিকে বলেন, এই ৮০টি জলহস্তী নিজেরা ভাগ্য বেছে নেয়নি। নিরাপদ ও মানবিক উপায়ে তাদের বাঁচানোর সামর্থ্য থাকলে চেষ্টা করাটা আমাদের দায়িত্ব।