লোগো তৈরি থেকে মালিকানা ছেড়ে যাওয়া: অ্যাপলের ৫০ বছরে ৫ মজার তথ্য
টেক জায়েন্ট অ্যাপল পা দিয়েছে ৫০ বছরে। ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশকে প্রযুক্তি আর পপ কালচারকে যেভাবে বদলে দিয়েছে, তা খুব কম প্রতিষ্ঠানই পেরেছে।
এই দীর্ঘ সময়ে অ্যাপলকে যেতে হয়েছে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে। তার মধ্যে মজার পাঁচটি তথ্য জানলে হয়তো চমকপ্রদ হবেন।
লোগোতে ‘কামড়’ কেন?
১৯৭৭ সালে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস যখন ডিজাইনার রব জানফকে লোগো তৈরির দায়িত্ব দেন, তখন একটাই কড়া নির্দেশ ছিল—লোগোটি যেন মোটেও ‘কিউট’ না লাগে।
২০১৮ সালে ফোর্বসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানফ বলেন, তিনি কম্পিউটারকে মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও আনন্দদায়ক করে তুলতে চেয়েছিলেন। লোগোতে কামড়ের চিহ্নটি (বাইট) দেওয়া হয়েছিল, যাতে একে চেরির মতো না দেখায়।

মজার ব্যাপার হলো, জানফ পরে জানতে পারেন যে কম্পিউটারের টার্মেও ‘বাইট’ শব্দটি রয়েছে।
অ্যাপলের লোগো নিয়ে প্রচলিত ‘আদম-হাওয়ার আপেল খাওয়া’ কিংবা কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টুরিংয়ের মৃত্যুর গল্পের কোনো ভিত্তি নেই।
জানফ বলেন, তার পুরো ক্যারিয়ারে এটিই একমাত্র কাজ, যেখানে তিনি ক্লায়েন্টকে মাত্র একটি আইডিয়া দেখিয়েছিলেন এবং সেটিই ইতিহাস হয়ে গেছে।
‘১৯৮৪’ বিজ্ঞাপন: পণ্য না দেখিয়েই বাজিমাত
টোটালিটারিয়ান বা একনায়কতান্ত্রিক এক কাল্পনিক জগৎ, যেখানে বিশাল স্ক্রিনে এক ‘বিগ ব্রাদার’ নাগরিকদের মগজধোলাই করছে। এমন সময় এক অ্যাথলেট তরুণী দৌড়ে এসে হাতুড়ি ছুড়ে মারলে চুরমার হয়ে যায় সেই স্ক্রিন।

জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস ‘১৯৮৪’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচালক রিডলি স্কট বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেন। এক মিনিটের বিজ্ঞাপনটি ১৯৮৪ সালের ২২ জানুয়ারি কোটি কোটি মানুষ দেখেছিলেন।
এর বিশেষত্ব হলো—পুরো বিজ্ঞাপনে একবারও পণ্য দেখানো হয়নি। বরং ব্যক্তিগত কম্পিউটারের মাধ্যমে ভোক্তাদের এক নতুন স্বাধীন দুনিয়ার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।
এই বিজ্ঞাপনই অ্যাপলকে আলাদা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বড় ভূমিকা রাখে।
রঙের খেলা
প্রতিযোগীদের চেয়ে আলাদা হতে অ্যাপল সবসময় রঙের ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে।
১৯৯৮ সালে আসা প্রথম প্রজন্মের আইম্যাকে ক্যান্ডির মতো নীল ও সবুজ রঙের স্বচ্ছ খোলস ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটা একইসঙ্গে দৃষ্টিনন্দন এবং ভেতরের হাইটেক যন্ত্রাংশ দেখার সুযোগ দিয়েছিল।

মেটালিক গ্রে রঙের আইপড খুব দ্রুতই উজ্জ্বল সব রঙে ছেয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আইফোন সিক্স-এসের ‘রোজ গোল্ড’ সংস্করণটি এতই জনপ্রিয় হয় যে, পরে ‘মিলিনিয়াল পিঙ্ক’ ট্রেন্ড নামে পরিচিতি পায়।
কেন সবসময় ৯টা ৪১ মিনিট
অ্যাপলের যেকোনো বিজ্ঞাপনে বা তাদের ওয়েবসাইটে একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে। সব ডিভাইসের স্ক্রিনে সময় থাকে ৯টা ৪১ মিনিট।

২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে অ্যাপলের তৎকালীন আইওএস প্রধান স্কট ফরস্টল এর রহস্য ফাঁস করেন।
তিনি জানান, স্টিভ জবস তার প্রেজেন্টেশনগুলো এমনভাবে সাজাতেন যাতে অনুষ্ঠানের ঠিক ৪০ মিনিটের মাথায় নতুন পণ্যটির বড় ছবি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। দর্শকের হাতের ঘড়ির সময়ের সঙ্গে যেন স্ক্রিনের সময় মিলে যায়। এ জন্যই এই সময় সেট করা হয়।
তবে ঠিক কাঁটায় কাঁটায় ৪০ মিনিট মেলানো কঠিন ছিল বলে বাড়তি এক মিনিট হাতে রেখে ৯টা ৪১ নির্ধারণ করা হয়।
অ্যাপলের ‘তৃতীয় ব্যক্তি’
স্টিভ জবস আর স্টিভ ওজনিয়াককে সবাই অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিনলেও, ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল তিন পৃষ্ঠার চুক্তিতে সই করেছিলেন আরও একজন—রোনাল্ড ওয়েন।

ভিডিও গেম কোম্পানি ‘আটারি’র ইঞ্জিনিয়ার ওয়েন ব্যবসাটি সফল হবে কিনা, তা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন। মাত্র ১১ দিনের মাথায় তিনি তার ১০ শতাংশ শেয়ার মাত্র দুই হাজার ৩০০ ডলারে বিক্রি করে দেন।
ওয়েন যদি সেই শেয়ার ধরে রাখতেন, ২০২৬ সালে এসে তার মূল্য দাঁড়াত প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার। এটাকে ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘মিসড অপরচুনিটি’ হিসেবে ধরা হয়।