যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি

অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে পেন্টাগনের চুক্তি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির আওতায় আনতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

এ জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিও হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স আজ বুধবার পেন্টাগনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে বিএই সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন ও হানিওয়েল অ্যারোস্পেসের সঙ্গে চুক্তি করেছে পেন্টাগন।

চুক্তির শর্তানুসারে, হানিওয়েল অ্যারোস্পেস ৫০ কোটি ডলারের একটি বহু বছর মেয়াদি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে যুদ্ধাস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়াবে। এর মধ্যে রয়েছে, নেভিগেশন সিস্টেম, মিসাইল স্টিয়ারিং অ্যাকচুয়েটর ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পণ্য। মার্কিন সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহৃত হয় এসব পণ্য।

হানিওয়েলের প্রধান নির্বাহী জিম কুরিয়ার বলেন, ‘জরুরি চাহিদা পূরণে আমরা প্রস্তুত।’

অন্যদিকে বিএই সিস্টেমস ও লকহিড মার্টিন যৌথভাবে টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন চারগুণ বাড়াবে। এছাড়া আরেকটি নতুন চুক্তি অনুযায়ী, লকহিড মার্টিন 'প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল' উৎপাদন দ্রুততর করবে।

লকহিড মার্টিনের প্রধান নির্বাহী জিম টাইকলেট বলেন, ‘সামরিক চাহিদা মেটাতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলতি মাসে সাতটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ইরানসহ সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রের ঘাটতি পূরণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রয়টার্স জানায়, ইরান যুদ্ধের অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক হাজার এয়ারবর্ন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ ও পরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার মজুত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্টিলারি সিস্টেম, গোলাবারুদ এবং অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল সরবরাহ করে আসছে, ফলে তাদের নিজস্ব মজুতে টান পড়েছে, উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।