ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক উপদেষ্টার পদত্যাগ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সামিরাহ মুনসি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থি বোর্ড সদস্য ক্যারি প্রিজান বোলারের অপসারণের প্রতিবাদও করেছেন এই সাবেক উপদেষ্টা।

গত ১৩ মার্চ ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্টসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

সামিরাহ ট্রাম্পের রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান কোয়াশিন অব ভার্চুর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিরাহ মুনসি সমাজমাধ্যমে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সামিরাহ জানিয়েছেন যে তিনি তার পদ ছেড়েছেন ‘ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল ক্যাথলিক সদস্য ক্যারি প্রিজান বোলারের অপসারণ ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের অবৈধ যুদ্ধের প্রতিবাদে’।

তার মতে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।

তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের এক বৈঠকে কর্তাব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘জায়নবাদী না হলেই কি একজন মানুষ ইহুদিবিদ্বেষী হয়ে যায়?’

প্রতিবেদন অনুসারে—সামিরাহ বলেন, মুসলিম হওয়ার কারণে প্যানেলের অন্য সদস্যরা তার প্রতি বিরূপ আচরণ করেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করেছেন।

সামিরাহ মুনসির ভাষ্য, ‘গত বছর অস্বস্তি নিয়ে এই পদ গ্রহণ করেছিলাম। আশা ছিল, যুক্তির পক্ষে কথা বলবো। সাধারণ মার্কিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলবো। তাদের কথা সাধারণত সরকারের উচ্চ মহলে পৌঁছায় না। মার্কিন মুসলমানদের অধিকার বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।’

তবে কোনো ভয় থেকে পদত্যাগ করেননি বলেও মন্তব্য করেন সামিরাহ। পাশাপাশি বলেন, প্যানেলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়। তিনি সেই ভয়েও ভীত নন।

সামিরাহর পদত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন ইসলামিক-আমেরিকান রিলেশনস। সংগঠনটি বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সমালোচনা সহ্য করে না। তারা মার্কিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা শুধু মুখে বলে।