ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানের ড্রোন হামলার ‘পরিকল্পনা’, এফবিআইয়ের সতর্কতা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ বিভাগকে সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পশ্চিম উপকূল বা ক্যালিফোর্নিয়াতে ড্রোন হামলা চালাতে পারে ইরান।

এ সতর্কবার্তা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জারি করা হয়েছিল বলে এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়।

এবিসি নিউজের পর্যালোচনা করা এফবিআইয়ের ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘আমরা সম্প্রতি তথ্য পেয়েছি যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় তাহলে তারা সম্ভাব্য একটি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ইরান এই পরিকল্পনা করে। এই হামলা হবে মার্কিন উপকূলের কাছে একটি অপরিচিত জাহাজ ও ড্রোন ব্যবহার করে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার অজানা লক্ষ্যবস্তুতে। আমরা এই হামলার সময়, পদ্ধতি, লক্ষ্য বা এর পেছনের কারিগরদের সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য পাইনি।’

এই সতর্কবার্তা আসে ঠিক সেই সময়ে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছিল। আর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছিল।

এ বিষয়ে জানতে লস অ্যাঞ্জেলেসের এফবিআই অফিসের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবিসি নিউজ, কিন্তু তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। এমনকি হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকোর মাদক চক্রের ড্রোন ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ এই প্রযুক্তি দিয়ে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে মার্কিন সেনাদের বা কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরে এবিসি নিউজের পর্যালোচনা করা এক বুলেটিন অনুযায়ী, ‘একটি যাচাই-প্রমাণহীন রিপোর্টে বলা হয়েছে, মেক্সিকান মাদক পাচার চক্রের নেতারা ড্রোনে বিস্ফোরক বহন করে সীমান্তের কাছে মার্কিন পুলিশ ও সেনাদের ওপর হামলার অনুমতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে এমন হামলা আগে কখনো হয়নি, তাই এ ধরনের ঘটনা নতুন হবে। তবে এটি সম্ভব্য একটি পরিস্থিতি। সাধারণত মাদক চক্র এমন কাজ এড়িয়ে চলে, যেন মার্কিন কর্তৃপক্ষের নজরে না পড়েন।’

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ও এবিসি নিউজের লেখক জন কোহেন বলেছেন, তিনি উদ্বিগ্ন যে ড্রোন যুদ্ধ প্রশান্ত মহাসাগর এবং মেক্সিকো উভয় দিক থেকে আসতে পারে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান দেশের বাইরে ‘গোপন সেল’ সক্রিয় করতে পারে।

কোহেন বলেন, আমরা জানি ইরানের মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় ভালো উপস্থিতি আছে। সেখানে তাদের সম্পর্ক ভালো, ড্রোন আছে এবং এখন হামলা চালানোর কারণও আছে। এফবিআই এই সতর্কবার্তা দিয়ে ভালো করেছে। এতে রাজ্য এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা এ ধরনের হুমকির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। এমন তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও এফবিআই স্পষ্ট করেনি কীভাবে বা কখন ড্রোন বহনকারী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের কাছে আসতে পারে। তবে, গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন যে, এসব সরঞ্জাম আগে থেকেই জমা রাখা হতে পারে, যেন ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ করলে তা ব্যবহার করা যায়।