বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়াল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদিভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব  হামলা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। এরপর ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে। পাল্টাপাল্টি হামলা এখনো চলছে।

বিবিসি জানায়, আজ সোমবার সকালে এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, নাইমেক্স লাইট সুইটের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১১৪ দশমিক ৭৮ ডলার হয়।  

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ার বাজারগুলোতে সোমবার সকালের লেনদেনে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশের বেশি, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশের বেশি এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৮ শতাংশের বেশি কমে গেলে লেনদেন ২০ মিনিটের জন্য স্থগিত করতে হয়।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংকীর্ণ পথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দিচ্ছেন, যদি হরমুজ প্রণালী মার্চের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের সিনিয়র ফেলো আদনান মাজারে বলেন যে, তেলের দামের এই উল্লম্ফন প্রত্যাশিতই ছিল; কারণ উপসাগরীয় কিছু দেশে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মানুষ বুঝতে পারছে যে এই সংকট দ্রুত মিটবে না। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিমার প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্যগুলো এখন 'ক্রমশ অবাস্তব হয়ে উঠছে।'

তেলের এই চড়া দাম জেট ফুয়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজাত পণ্য এবং সার তৈরির অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামালের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে।