ইরান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে একটি মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ১৪৬ ফুট দীর্ঘ মার্কিন বি–১ ল্যান্সার শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে পৌঁছায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর অনুমতি দেন।
বিবিসি জানায়, শুরুতে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্তে ‘তিনি যুক্তরাজ্যের ওপর সন্তুষ্ট নন’ এবং এর ফলে মার্কিন বিমানগুলোকে অতিরিক্ত সময় উড়তে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের ওপর হামলা ‘নাটকীয়ভাবে বাড়তে যাচ্ছে’।
বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮৬ টন ওজনের বি–১ ল্যান্সার মার্কিন বিমানবাহিনীর দ্রুততম বোমারু বিমানগুলোর একটি, যার গতি ঘণ্টায় ৯০০ মাইলের বেশি। ‘দ্য বোন’ নামে পরিচিত এই বিমানে উন্নত রাডার, জিপিএস ও ইলেকট্রনিক জ্যামারসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসিকে বলেন, বি–১ ল্যান্সার ‘বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোমারু বিমান’ এবং এটি দ্রুত দীর্ঘ দূরত্বে বড় পরিমাণ অস্ত্র বহন করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে যাতায়াত করা অনেক বেশি কার্যকর।’
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শনিবার অষ্টম দিনে পৌঁছেছে। রাতভর তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানায় বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইপ্রাসে আরএএফের আক্রোটিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর যুক্তরাজ্য সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, হামলায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রয়্যাল নেভির দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার সাইপ্রাসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।