চলে গেলেন গডফাদার সিনেমার অভিনেতা রবার্ট ডুভাল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নানা কারণে মারিও পুজোর উপন্যাস দ্য গডফাদার খ্যাতি অর্জন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির সিসিলি থেকে আসা মাফিয়াদের জীবনযাপনের ‘প্রায় নিখুঁত’ বর্ণনা পাওয়া যায় তার ওই লেখায়।

তবে বইয়ের চেয়েও কম সুনাম অর্জন করেনি ওই কাহিনীর ওপর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো। ফ্র্যান্সিস ফোর্ড কপোলার প্রযোজনায় দ্য গডফাদার সিরিজের তিনটি সিনেমা মুক্তি পেলেও প্রথম দুইটি পর্ব বেশি জনপ্রিয়।

ওই দুই পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেন রবার্ট ডুভাল। রোববার সেই মহান অভিনেতা পরপারে পাড়ি দিয়েছেন।

দ্য গডফাদার সিনেমায় মাফিয়াদের আইনজীবী টম হ্যাগেন ও অ্যাপোক্যালিপ্স নাও সিনেমার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিলগোর-এর চরিত্রে অভিনয় দক্ষতার নিদর্শন রাখেন ডুভাল (৯৫)।

আজ মঙ্গলবার স্ত্রী লুসিয়ানা ডুভালের বরাত দিয়ে রবার্ট ডুভালের মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

লুসিয়ানা বলেন, ‘গতকাল আমার প্রিয় স্বামী, ভালোবাসার পাত্র, অসামান্য বন্ধু ও আমাদের আমলের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন অভিনেতাকে বিদায় জানিয়েছি। বব (রবার্ট) নিজের বাসায় আত্মীয়পরিজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেছে।’

রবার্ট ডুভাল একবার সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার জেতেন। আরও ছয় বার মনোনয়ন পান তিনি। প্রায় ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি মূল ও পার্শ্বচরিত্রে, উভয়ই সমান পারদর্শিতা দেখান। এমন কী, পরিচালক হিসেবেও সফল ছিলেন তিনি। ৯০ বছর বয়সেও অভিনয় চালিয়ে যান তিনি।

লুসিয়ানা ডুভাল বলেন, ‘গোটা বিশ্বের কাছে তিনি একজন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী অভিনেতা, পরিচালক ও গল্পকথক। কিন্তু সে ছিল আমার পুরো জগৎ।’

Executives United global headhunters consigliere consultant godfather cases

প্রয়াত স্বামীর বিষয়ে আরও জানান লুসিয়ানা, নিজের পেশার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ছিল তার। পাশাপাশি ভালো খাবার ও ভরা মজলিসে সমমনা মানুষের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিতেও একই রকম উৎসাহ দেখিয়েছে সে। 

১৯৮৩ সালে ‘টেন্ডার মার্সিস’ সিনেমায় কান্ট্রি গায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জেতেন তিনি। 

তবে তার সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র ছিল গডফাদার সিনেমায় টম হ্যাগেনের ভূমিকা। ওই সিনেমায় তিনি ‘রাগী’ মাফিয়াদের জগতে একজন ঠাণ্ডা মাথার উপদেষ্টা ও আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয় করে সবার মনোযোগ কেড়ে নেন। 

পাশাপাশি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের ওপর নির্মিত অ্যাপোক্যালিপ্স নাউ (১৯৭৯) সিনেমায় পাগলাটে কর্নেল উইলিয়াম কিলগোরের চরিত্রটিও অবিস্মরণীয়

গডফাদারের মতো ওই সিনেমার পরিচালকও ছিলেন ফ্র্যান্সিস ফোর্ড কপোলা। 

গডফাদার সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মাইকেল কর্লিওনির ভূমিকায় ছিলেন অভিনেতা অ্যাল পাচিনো। ওই সিনেমার মাধ্যমেই তিনি হলিউডে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন। 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রবার্ট ডুভালের সঙ্গে কাজ করতে পারা একটি সম্মানের বিষয় ছিল।’

‘তিনি একজন জাত অভিনেতা ছিলেন। অভিনয়ের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা, এ বিষয়ে তার জ্ঞান ও অভিনেতা হিসেবে তিনি আমাদেরকে যে অসামান্য চরিত্রগুলো উপহার দিয়েছেন, সেগুলো আমরা আজীবন মনে রাখব। তার কথা আমার প্রায়ই মনে পড়বে’, যোগ করেন তিনি। 

‘আই লাভ দ্য স্মেল অব নাপাম ইন দ্য মর্নিং’—এই বাক্যের মাধ্যমে কর্নেল কিলগোর চরিত্রটিকে অমর করে তোলেন ডুভাল। একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভিয়েতনামের সমুদ্রসৈকতে বোমা হামলা চালাচ্ছে—এমন সময় তার চরিত্রের মুখ থেকে ওই বাক্যটি শোনা যায়। 

এই লাইনটি এরপর আরও অনেক বই, সিনেমা, গান ও ভিডিও গেমে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। 

ডুভালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে পরিচালক ফ্র্যান্সিস ফোর্ড কপোলা। 

তার মৃত্যুকে ‘বড় ক্ষতি’ আখ্যা দেন এই বিখ্যাত পরিচালক। 

৩১ বছর বয়সে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন ডুভাল। হার্পার লির উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’ সিনেমায় বু র‍্যাডলি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। 

এরপর নেটওয়ার্ক,  দ্য গ্রেট স্যান্টিনি ও টেন্ডার মার্সির মতো একের পর এক হিট সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। 

হলিউডের আরও অনেক অভিনেতা ও কুশীলব ডুভালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।