বেসরকারি হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এবার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন থেকে হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের অবশ্যই এসব হাসপাতালে ভর্তি নিতে হবে।
সারা দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের উদ্দেশে আজ এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় এ ধরনের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও কেবিনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না বা চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই নির্দেশনা দিলো।
কোনো বেসরকারি হাসপাতাল এখন থেকে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারবে না। এ ছাড়া এসব রোগীর চিকিৎসায় স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।
‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২১’-এর কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ দরিদ্র রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসার জন্য রাখতে হয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে সেসব সংরক্ষিত শয্যার অর্ধেক অবশ্যই হাম এবং হামের উপসর্গযুক্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ—কোনো হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা যদি ২৫০ হয়, তবে সেখানে অন্তত ১২টি শয্যা হামের রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসার জন্য রাখতে হবে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং অনুসন্ধান ডেস্কে এ-সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে লিখে প্রদর্শন করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রতিটি রোগীর সঙ্গে কেবল একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকতে পারবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান দ্য ডেইলি স্টারকে এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।