আলীকদমের দুর্গম এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২ ম্রো শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরও ৬

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিংলতপাড়ায় গত শনিবার ওই ২ শিশু মারা গেলেও আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটি দুর্গম এবং মোবাইল বা টেলিফোন নেটওয়ার্ক নেই। এ কারণে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে দেরি হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন।

যোগাযোগ করা হলে আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে বলে খবর পেয়েছি। তবে তারা হাম রোগে মারা গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।'

তিনি জানান, ওই দুর্গম এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। আরও কেউ হাম আক্রান্ত হয়ে থাকলে দ্রুত উপজেলা সদরে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

মারা যাওয়া দুই ম্রো শিশু হলো কুরুকপাতা ইউনিয়নের রিংলতপাড়ার লে ক্লাং ম্রোর ৩ মাস বয়সী মেয়ে জং রুং ম্রো ও লুকুন ম্রোর ৭ মাস বয়সী ছেলে খতং ম্রো।

স্থানীয়রা জানায়, দুই শিশুর জ্বর ও শরীরে ছোট ছোট ফোসকা ছিল।

জানা গেছে, ওই এলাকার আরও ৪ শিশুসহ মোট ৬ শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

রিংলতপাড়ার বাসিন্দা তনওয়াই ম্রো ডেইলি স্টারকে জানান, তার ছোটবোন কনক্রাত ম্রোকে (১৯) বুধবার আলীকদম হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

ওই গ্রাম থেকে আরও ৩ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, রিংলতপাড়াসহ আরও ৩ পাড়ায় হাম আক্রান্ত অন্তত ২০-৩০ শিশু আছে, যাদের এখনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাত পুং ম্রো ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।'

জানতে চাইলে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৪ জন কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার।

পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য ওই এলাকায় আজ সকালে ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখনো জেলায় নিশ্চিতভাবে হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে কুরুকপাতা ইউনিয়নে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে আছে।'