গাছের গুঁড়িতে তালে তালে ‘ঢোল’ বাজায় শিম্পাঞ্জি
ঢোলের তালে মাথা দোলানো কেবল মানুষের কাজ, এমন ধারণা বোধহয় এবার বদলাতে হবে। কারণ আফ্রিকার জঙ্গলে বসবাসকারী বন্য শিম্পাঞ্জিদের দেখা গেছে, গাছের গুঁড়িতে হাত-পা দিয়ে তাল মিলিয়ে ‘ঢোল’ বাজাতে। আর সেটাও এলোমেলো নয়, বরং নির্দিষ্ট ছন্দে। এমন দৃশ্য দেখে বিস্মিত বিজ্ঞানীরাও।
গবেষকেরা বলছেন, শিম্পাঞ্জিদের এই ‘ঢোল বাজানো’ নিছক দুষ্টুমি নয়। এটি তাদের এক ধরনের ভাষা। দূরে থাকা দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তারা এই অভিনব কৌশল ব্যবহার করে।
বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিম্পাঞ্জিরা সাধারণত গাছের গোড়ার বিশাল উঁচু শিকড়ে জোরে জোরে আঘাত করে। সেই আঘাতে তৈরি হয় ঢোলের মতো শব্দ, যা ঘন জঙ্গলের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যেন বনজুড়ে বেজে ওঠে প্রাকৃতিক ড্রাম।
২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, উগান্ডার প্রতিটি শিম্পাঞ্জিরই রয়েছে নিজস্ব ‘ড্রামিং স্টাইল’। কেউ দ্রুত তালে বাজায়, কেউ ধীরে। সেই ছন্দ শুনেই দলের অন্য সদস্যরা বুঝে নেয় কে কোথায় আছে।
তবে নতুন গবেষণায় আরও মজার তথ্য মিলেছে। আফ্রিকার ছয়টি শিম্পাঞ্জি দলের ৩৭০টির বেশি ড্রামিং বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পশ্চিম আফ্রিকার শিম্পাঞ্জিরা প্রায় সমান বিরতিতে তাল তোলে। আর পূর্ব আফ্রিকার শিম্পাঞ্জিরা ছোট-বড় বিরতি মিলিয়ে আরও বৈচিত্র্যময় ছন্দ তৈরি করে। ঠিক যেন একই বাদ্যযন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার সংগীত!
চমক এখানেই শেষ নয়। গিনি-বিসাউয়ের কিছু শিম্পাঞ্জি আবার হাত-পায়ের বদলে পাথর ব্যবহার করে। তারা গাছের কাণ্ডে পাথর ছুড়ে এমন শব্দ তোলে, যা অনেকটা পারকাশন বাদ্যের মতো শোনায়। মজার ব্যাপার হলো, এই ‘পারফরম্যান্স’ শুরু করার আগে তারা প্রায়ই নিজেদের স্বভাবসুলভ জোরালো ‘প্যান্ট-হুট’ ডাক ছেড়ে দেয়।
গবেষকদের ধারণা, এই কৌশল ছোট শিম্পাঞ্জিরা বড়দের দেখে শেখে। অর্থাৎ তাদের মধ্যেও এক ধরনের সাংস্কৃতিক শিক্ষা বা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা আছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আচরণ থেকে বোঝা যায়, তাল কিংবা শব্দ দিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করার রীতি অনেক আগে থেকেই চলে আসেছে।
তবে শিম্পাঞ্জিরাই একমাত্র ‘বাদ্যশিল্পী’ নয়। অস্ট্রেলিয়ার পাম ককাটু নামের এক বিরল পাখিও তাল মিলিয়ে ‘ঢোল’ বাজায়। ঠোঁট দিয়ে কাঠি বা শক্ত বীজ কেটে নিজের মতো করে তৈরি করে নেয় এক ধরনের ড্রামস্টিক। তারপর গাছের কাণ্ডে টুপটাপ আঘাত করে। তাদের উদ্দেশ্য সঙ্গীকে আকৃষ্ট করা কিংবা নিজের এলাকা জানান দেওয়া।