শ্রীমঙ্গলে বাড়ির রান্নাঘর থেকে বিষধর কোবরা উদ্ধার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে বিরল ও অত্যন্ত বিষধর একটি কোবরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার জানাউড়া গ্রামের বাসিন্দা তারেক আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারেক আহমেদ বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির নারীরা রান্নাঘর পরিষ্কার করার সময় ইঁদুরের গর্ত থেকে অস্বাভাবিক ফোঁসফোঁস শব্দ শুনতে পান। পরে তারা ফণা তোলা একটি বড় সাপ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। লাঠি দিয়ে মারার চেষ্টা করা হলেও সাপটির আক্রমণাত্মক আচরণ ও বারবার ছোবল দেওয়ার ভঙ্গি দেখে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পায়নি।’
পরে বিষয়টি বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস ফাউন্ডেশনকে জানালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় তারা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় গর্ত থেকে উদ্ধার করেন।
স্বপন দেব সজল জানান, উদ্ধার হওয়া সাপটি একটি কিং কোবরা, যা বিশ্বের দীর্ঘতম বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত। প্রাপ্তবয়স্ক কিং কোবরা প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। সাধারণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে এদের দেখা মেলে। শ্রীমঙ্গলের আশপাশের বনাঞ্চল, বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
‘এ ধরনের সাপ লোকালয়ে খুব কম দেখা যায়। এদের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে দ্রুত আঘাত হানে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। সাপটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল, তবে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে,’ বলেন স্বপন।
বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে এ প্রজাতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) কিং কোবরাকে ‘ভালনারেবল’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
উদ্ধারের পর সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সাপটিকে নিরাপদে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।