দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানির আমদানি-নির্ভরতা কমানো হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় জ্বালানির উৎপাদন বাড়িয়ে ধীরে ধীরে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ এ কথা জানিয়েছেন।
কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের একটি নতুন কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে মোট ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস যুক্ত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হবেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয় উৎস থেকেই মেটানোর আশা করছে সরকার।
নতুন শ্রীকাইল-৫ কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এলএনজির বর্তমান আমদানি মূল্য অনুযায়ী আগামী ১০ বছরে এই কূপ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮৩২ কোটি টাকার গ্যাস উৎপাদিত হবে। সমপরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে হলে রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ পড়ত।
সরকার দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটে জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল হলেই দেশ ঝুঁকির মুখে পড়ে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কোনো দেশ যখন আমদানিনির্ভর হয়, তখন যেকোনো বৈশ্বিক সংকটই তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। আমরা যদি স্বাবলম্বী হতাম, তাহলে এসব ঝুঁকি আরও সহজে মোকাবিলা করতে পারতাম।’ তাই সরকার জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
আসন্ন ঈদযাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানিসংকটের কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষ যেন দুর্ভোগে না পড়ে, সে জন্য আমরা ইতিমধ্যে পরিবহন খাতকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশ্বাস দিয়েছি।’ এ বিষয়ে শিগগিরই একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।