অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে জরিমানা দ্বিগুণ হচ্ছে

আসিফুর রহমান
আসিফুর রহমান
বাহরাম খান
বাহরাম খান

'বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০' সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। সংশোধনের ফলে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের জন্য জরিমানা প্রায় দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন মালিকসহ সম্পত্তির মালিকদের শাস্তি দেওয়ার বিধানও এই সংশোধনীতে থাকছে।

গৃহস্থালিতে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের জন্য বর্তমানে ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা চালু রয়েছে। 'বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬'- এর খসড়া অনুযায়ী, এই জরিমানা বেড়ে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। খসড়াটি আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উঠবে।

খসড়ায় বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। শিল্প ব্যবহারকারী, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা দুই লাখ টাকা থেকে বেড়ে চার লাখ টাকা হবে।

এদিকে, বিদ্যুৎ ও সার খাতে অনিয়মের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। আগে এই অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ছিল।

খসড়া অধ্যাদেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

অপরাধ ও জরিমানা অধ্যায়ে যুক্ত একটি নতুন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরবরাহ লাইন থেকে নিজে বা ঠিকাদার বা অন্য কারো সহায়তায় বা প্ররোচনায় গ্যাস ব্যবহার করা; এমন ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অপরাধ সংঘটনের স্থানের (জমি/ভবন/ফ্ল্যাট) স্বত্বাধিকারী ও সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির কর্মচারী, ঠিকাদার বা অন্য কেউ জড়িত থাকলে অপরাধী বলে গণ্য হবেন।

খসড়া অনুসারে, অনুমোদিত সংখ্যার চুলার বেশি চুলা ব্যবহার করে যারা মিটারবিহীনভাবে গ্যাস ব্যবহার করবেন এবং মিটারযুক্ত গ্রাহক যারা অনুমোদিত ঘণ্টায় লোডের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করবেন, তাদের সেই কার্যকলাপ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

অধ্যাদেশের অধীনে নিয়ম প্রণয়নে সরকার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ভূমিকা সীমিত করেছে।

'বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০' অনুসারে, সরকারকে নিয়ন্ত্রকের সাথে পরামর্শ করে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়ম প্রণয়ন করতে হতো। নতুন অধ্যাদেশের খসড়ায় বিইআরসির ভূমিকার কোনো উল্লেখ নেই।