ভারী বর্ষণ: চট্টগ্রামে তলিয়েছে ৭৪০০ জলাশয়, মৎস্য খাতে ৩৯ কোটি টাকার ক্ষতি
চট্টগ্রামে টানা ৫ দিনের ভারী বৃষ্টিতে জেলার অন্তত ৭ হাজার ৪০০ বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর, চিংড়িঘের ও অন্যান্য জলাশয় তলিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত মৎস্য খাতে প্রায় ৩৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পটিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জলাশয় তলিয়ে গেছে।
এছাড়া, আনোয়ারায় প্রায় ১ হাজার ১০০ এবং বাঁশখালীতে ৪৫০ পুকুর ও চিংড়িঘের প্লাবিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হাটহাজারী উপজেলার হালদা নদীর তীরবর্তী রামদাশ হাট এলাকার মাছচাষি রবিউল হাসান মুন্নার দুটি পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় সব পোনা ভেসে গেছে। পুকুরে তিনি হালদা নদীর ডিম থেকে উৎপাদিত ৮০ কেজি মাছের পোনা বড় করছিলেন।
রবিউল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি পোনার দাম অন্তত ৪ হাজার টাকা। এতে আমার ৩ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।'
বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার চিংড়িচাষি রহিম উদ্দিন জানান, একটি বিকল স্লুইসগেট দিয়ে বন্যার পানি সাগরে নামতে না পারায় তার ৩টি চিংড়িঘের প্লাবিত হয়েছে।
তিনি বলেন, 'সব মাছ ভেসে গেছে। এতে আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।'
বাঁশখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, ছনুয়ার মধুখালী এলাকার দুটি নিষ্কাশন গেটের একটি অচল হয়ে যাওয়ায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এ কারণে অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে আছে। মাছের ঘেরও প্লাবিত হয়েছে।'
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, 'জেলায় বাঁশখালী ও আনোয়ারায় চিংড়ি চাষ বেশি হয়। এই দুই উপজেলায় অন্তত ৫৫টি চিংড়িঘের তলিয়ে গেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'হাটহাজারী হালদা নদীর ডিম থেকে উৎপাদিত মূল্যবান মাছের পোনার জন্য পরিচিত। সেখানে প্রায় ১৪৫টি মৎস্য খামারও পানিতে তলিয়ে গেছে।'
সালমা বেগম বলেন, প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় মৎস্য খাতে ৩৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে টানা পঞ্চম দিনের মতো ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় দেখা দিয়েছে পাহাড়ধস এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের অধিকাংশ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।