সিরাজগঞ্জে যমুনায় ভাঙন: ঝুঁকিতে মসজিদ-ঘরবাড়ি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ​পাবনা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর ও চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

আজ​ বুধবার সকাল থেকে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ কুয়েত মসজিদ এলাকায় শুরু হয় তীব্র ভাঙন।

স্থানীয়রা জানায়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে মসজিদের কাছাকাছি প্রায় ৩০-৪০ মিটার তীরবর্তী এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা দেখে আশপাশের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে শুধু কংক্রিটের তৈরি মসজিদটি নদীর তীরে কোনোভাবে টিকে আছে।

গত কয়েকদিনে যমুনার এই ভয়াবহ রূপ নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মওদুদ আহমেদ সবুজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উজানের পানির তীব্র চাপের কারণেই হঠাৎ এই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মসজিদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।'

গত সপ্তাহে চর সলিমাবাদ গ্রামে হঠাৎ করে নদীভাঙন দেখা দিলে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা পয়েন্টেও দুদিন আগে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয়রা।

যোগাযোগ করা হলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, 'পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। যেখানেই ভাঙন দেখা দিচ্ছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলে তা রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ দিনে যমুনার পানি কাজীপুর পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৫৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে নদীটি বিপদসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ২ দশমিক ৪ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি আরও কয়েকদিন বাড়লেও এখনই বিপৎসীমা অতিক্রম করার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।