তিস্তার স্রোতে ধসে যাচ্ছে সুরক্ষা বাঁধ, হুমকিতে সেতু ও সড়ক
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কে তিস্তা নদীর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে তিস্তা সড়ক সেতুর সুরক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লক (সিসি ব্লক) ধসে পড়ছে। ইতিমধ্যে বাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে তিস্তা সড়ক সেতু, মহিপুর-কাকিনা আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের ছয়টি গ্রামের মানুষ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেতুর উত্তর-পশ্চিম অংশের প্রায় ৮০০ মিটার সুরক্ষা বাঁধে এই ভাঙন শুরু হয়। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৩৫ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেখানে গভীর একটি গর্তও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সেতু ও সড়কের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পাশাপাশি তিস্তার পানি লোকালয়ে ঢুকে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা থেকে পানির প্রবল স্রোত সুরক্ষা বাঁধে সরাসরি আঘাত হানছে। চোখের সামনে একের পর এক সিসি ব্লক ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙনের গতিও বাড়ছে। পুরো বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেতু ও সড়ক হুমকিতে পড়বে। আশপাশের গ্রামগুলোও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।’
স্থানীয়রা জানান, একই স্থানে গত বছরও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সে সময় বাঁধের বিপুল পরিমাণ সিসি ব্লক ধসে পড়ে এবং প্রায় ৮০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাঁশের পাইলিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল। এবার পানির তোড়ে সেই পাইলিং ভেঙে গিয়ে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের দাবি, গত বছরের ওই ঘটনার পর স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নিলে এবার আর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ভাঙনের সময় আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলাম। স্থায়ী সমাধানের জন্য এলজিইডিকে পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। মহিপুর সেতু এলাকায় তিস্তার স্রোত তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এখানে শুধু বাঁশের পাইলিং দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুরক্ষা বাঁধটি এলজিইডির আওতাধীন, তাই তাদেরকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ঢাকার বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশ অনুযায়ী বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পানির তীব্র স্রোতের কারণে সিসি ব্লক ধসে যাচ্ছে। বাঁধ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সুরক্ষা বাঁধটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
গঙ্গাচড়ায় মহিপুরে অবস্থিত তিস্তা সড়ক সেতুটি রংপুরের সঙ্গে লালমনিরহাটের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ও সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন।