‘বনলতা এক্সপ্রেস নিয়ে এত উচ্ছ্বাস-আনন্দ খুব ভালো লাগছে’
বাংলাদেশের কিংবদন্তী লেখক হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন জাকিয়া বারী মম।
প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাৎ করেন তিনি; অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
সেখান থেকে তার পথচলা শুরু এবং সাফল্য ধরে রেখে দীর্ঘদিন ধরে শোবিজের জগতে আত্মবিশ্বাসী বিচরণ তার। নাটক, সিনেমা ও ওটিটি—তিন মাধ্যমেই ঈর্ষণীয় সাফল্য ও দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।
এবার ঈদে তার অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া ‘মাস্টার’ নামে নতুন একটি সিনেমা মুক্তি পাবে শিগগিরই।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন মম।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় মম অভিনয় করেছেন আফিয়া চরিত্রে, যা দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে। তার অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শকরা।
মম বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার জন্য এত উচ্ছ্বাস, খুব ভালো লাগছে। দর্শকরা প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটি দেখছেন। অসম্ভব ভালোবাসা নিয়ে দেখছেন এবং পুরো সিনেমার প্রশংসা করছেন। এজন্য দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
মম আরও বলেন, ‘আমি অভিনয় করেছি আফিয়া চরিত্রে। কোনো কোনো দর্শক আমাকে ছুঁয়ে কেঁদে দিয়েছেন; তাদের ভালো লাগার কথা বলেছেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ হাসছেন—এইরকম অবস্থা অনেকদিন দেখিনি। এসব ভালোবাসা ভুলবার নয়। আসলে দর্শকরাই সিনেমার প্রাণ।’
সিনেমার সহশিল্পীদের বিষয়ে মম বলেন, ‘সহশিল্পীরা সবাই বড় বড় তারকা। তারা অনেক বড় মাপের শিল্পী। তাদের সঙ্গে অভিনয় করে ভীষণ ভালো লেগেছে। এই সিনেমা ছাড়াও তাদের সঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি, শুধু শরিফুল রাজ বাদে। প্রত্যেকে শতভাগ শ্রম ও দরদ দিয়ে অভিনয় করেছেন। টিম সুন্দর ছিল।’
পরিচালক তানিম নূর সম্পর্কে মম বলেন, ‘তানিম নূর অনেক মেধাবী একজন পরিচালক। হুমায়ূন আহমেদের “কিছুক্ষণ” উপন্যাস থেকে তিনি সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। খুব ভালো একটি সিনেমা তিনি নির্মাণ করেছেন। তার সঙ্গে যারা স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, তারাও মেধার পরিচয় দিয়েছেন। বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার পুরো কৃতিত্ব পরিচালক তানিম নূরের।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দর্শকরা ভালো গল্প চান, যা বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় আছে। ভালো গল্প, ভালো নির্মাণ, ভালো অভিনয় এই সিনেমায় আছে।’
মম অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘দারুচিনি দ্বীপ’।
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি পরিচালনা করেন গুণী নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের মন জয় করেন মম এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
ওই সিনেমায় অভিনয়ের স্মৃতিচারণা করে মম বলেন, ‘তৌকীর আহমেদ অনেক বড় মাপের একজন নির্মাতা ও পরিচালক। তার পরিচালনায় কাজ করা আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে বড় একটি বিষয়। ওই সময় থেকেই তৌকীর আহমেদ ভাই ও বিপাশা হায়াত আপুর সঙ্গে পরিচয় এবং সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিপাশা আপার লেখা অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। ভীষণ গুণী শিল্পী তিনি। আর তৌকীর ভাইকে আমি মেন্টর মনে করি। এই দুই জন শিল্পীর কাছ থেকে অনেক শিখেছি।’
শেখার বিষয়ে মম আরও বলেন, ‘দেখুন, আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্যার আমার শিক্ষক ছিলেন। স্যারের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে আমার।’
এদেশে শুধুমাত্র ঈদকেন্দ্রিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পেয়ে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে—এই বিষয়ে মম বলেন, ‘সিনেমা শুধু ঈদকেন্দ্রিক কেন মুক্তি পাবে? সারাবছর মুক্তি দেওয়া হোক। বড় দুই ঈদ ছাড়াও আমাদের আরও উৎসব আছে। পহেলা বৈশাখ আছে, আরও অনেক উৎসব আছে। সেইসব উৎসবকে কেন্দ্র করে যদি সিনেমা মুক্তি পায়, তাহলে খুব ভালো হয়। বড় কথা হচ্ছে, বছরব্যাপী সিনেমা মুক্তি পাওয়া উচিত।’
এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে মম অভিনীত নতুন সিনেমা ‘মাস্টার’। কিছুদিন আগে মাস্টার সিনেমাটি নেদারল্যান্ডসে পুরস্কার জিতেছে এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মম বলেন, ‘মাস্টার সিনেমাটি দারুণ গল্পের একটি কাজ। বিদেশে পুরস্কার জিতেছে, সবার প্রশংসা পেয়েছে। আশা করছি খুব কাছাকাছি সময়ে এটি মুক্তি পাবে।’


