‘তদবিরের চাপে’ ঝুলে গেল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার ফল
সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার আয়োজন করেও ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনৈতিক তদবির ও প্রভাবশালী মহলের চাপ সামলাতে না পেরে ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে। যদিও বিধি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ সংস্থা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ) পরীক্ষাটি আয়োজন করে। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা ও ফল প্রকাশের জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। আমদানি-রপ্তানি, পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণ কার্যক্রমে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাস্টমসের সহায়ক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
পরীক্ষা আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে অংশ নেন ২ হাজার ৫২১ জন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন। সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পরীক্ষার রাতেই উত্তীর্ণ ২১০ জনের তালিকাসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিটির ৬ সদস্য স্বাক্ষর করেন। রোববারের মধ্যে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন তা আটকে দেওয়া হয়েছে, আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’
পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য অভিযোগ করেন, ‘২১০ জনের তালিকার বাইরে আরও শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু কমিটির অন্য সদস্যরা তাতে রাজি হননি। এরপরই ফলাফল প্রকাশ স্থগিত হয়ে যায়।’
এই সদস্যের দাবি, এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো তালিকায় এমন পরীক্ষার্থীর নামও ছিল, যারা ১০ নম্বরও পাননি।
যোগাযোগ করা হলে সিইভিটিএর মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান অনৈতিক তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কতজন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন এবং কেন ফলাফল প্রকাশ না করে এনবিআরের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য বিষয়টি এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।’
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য এনবিআরের অনুমোদন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং, ফল প্রকাশে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে তারা অনৈতিক বলেই মনে করছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা ও এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।