তেল-গ্যাসবাহী ৬ জাহাজ চট্টগ্রামে, সংকটের উদ্বেগ কাটার আশা

স্টার বিজনেস রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে চলতি সপ্তাহে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল, এলপিজিবাহী ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় শিপিং এজেন্টরা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই জাহাজগুলো আসায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি জাহাজের মধ্যে দুটি জাহাজে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৫৮ টন এলএনজি, দুটিতে ৪০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল ও একটিতে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি এসেছে।

ষষ্ঠ জাহাজটিতে ১৪ হাজার টন তরল হাইড্রোকার্বন কনডেনসেট গত ৫ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।

এছাড়া, এলএনজি, এলপিজি ও ডিজেলবাহী আরও ৫টি জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশের পথে রয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কাতারের রাস লাফান টার্মিনাল থেকে তিনটি জাহাজে বাংলাদেশের জন্য এলএনজি লোড করা হয়েছে।

স্থানীয় শিপিং এজেন্ট 'ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের' কর্মকর্তারা জানান, ওই তিন জাহাজের মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এই দুই জাহাজে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

তবে, ৬২ হাজার টন এলএনজিবাহী তৃতীয় জাহাজ ‘লেব্রেথাহ’ এখনো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছেন ওই এজেন্সির সিনিয়র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আলম।

ওমানের সোহর বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে আজ চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা আছে।

শিপিং এজেন্ট 'প্রাইড শিপিংয়ের' তথ্য অন্যযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেলবাহী আরেকটি জাহাজ আগামী ১২ মার্চ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং গ্যাসের ৭০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এগুলোর বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলার পর এ অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা করোনা মহামারির পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির রেকর্ড।