কুদরত-ই-হুদা
বাংলাদেশের কবিতায় ওমর আলীর হঠাৎ আলোর ঝলকানি
শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক মাংস বৃদ্ধিকে সুস্বাস্থ্য বলে না। বরং ডাক্তারি শাস্ত্রে সেটা একটা রোগ। স্বাস্থ্য মানে শরীরের সব প্রত্যঙ্গের সুষম ও প্রয়োজনসম্মত বিকাশ। বাংলাদেশের সমাজ যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নয় তার প্রমাণ এর সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক। সবকিছুতে ঢাকার অস্বাভাবিক মাংস বৃদ্ধি ঘটেছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য জায়গার সেই আনুপাতিক বৃদ্ধি আগেও ঘটেনি, এখনো ঘটছে না। চৌষট্টিটি জেলা আর অসংখ্য মফস্বল শহর ও গ্রাম-গ্রামান্তর প্রায় সব ক্ষেত্রেই সুষ্ঠুভাবে বিকশিত হয়নি। একারণে সবাই সবকিছুর জন্য শুধু ঢাকায় আসতে চায়। ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকে। ঢাকা যেন বাংলাদেশের কামরূপ-কামাক্ষা। এতে ঢাকার চাহিদা আর ‘মাহাত্ম্যের’ বাড়াবাড়িটা হয়ত বোঝা যায়, কিন্তু একইসাথে এই পরিস্থিতি ঢাকার বাইরের দীনতাও প্রকাশ করে। কথাগুলো কবি ওমর আলীক মাথায় রেখে মনে হলো। কারণ কবি ওমর আলী বলতে ঢাকার শিক্ষিত কবিকুল মফস্বলের ওমর আলীই বোঝেন।
২১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের ভাষা
লেখাটিতে আমরা সামগ্রিকভাবে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের ভাষার কিছু সাধারণ লক্ষণ বা সূত্র নির্দেশের চেষ্টা করব। একথা মেনেই আলোচনায় এগোচ্ছি যে, হুমায়ূন আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ এবং সার্থক সব উপন্যাসের ভাষায়ই একটা নিজস্বতা ধরা পড়েছে। সেটাই ধরার চেষ্টা করব। এজন্য কখনো কখনো ইতিহাসেও উঁকি দেওয়া লাগতে পারে।
১৯ জুলাই ২০২২, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
‘বিদ্রোহী’ কবিতার নন্দনতাত্ত্বিক রাজনীতি
যেকোনো বড় কবি তার স্ব-ভাষার কবিতার ইতিহাসে কিছু না কিছু নতুনত্ব নিয়ে আসেন। কারও কারও নতুনত্ব গভীর অভিনিবেশ দিয়ে বুঝতে হয়। আবার কারও কারও নতুনত্ব কোনো মনোযোগ ছাড়াই টের পাওয়া যায়। ভাতের হাঁড়ি অতিতাপে যেমন একসময় সশব্দে বলকাতে থাকে, তেমনি কোনো কোনো কবির কবিতা মনোযোগ ছাড়াই মাথার মধ্যে বলকানি তোলে। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা বাংলা কবিতায় তাই-ই ছিল। তার কবিতা আধুনিক বাংলা কবিতার একশ বছরের ইতিহাসের মসৃণ পথচলাকে আমূল বদলে দিয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বাংলা কবিতার পঠন-পাঠন-শ্রুতির ভূগোলে নজরুল এবং জসীমউদ্দীনই বোধ করি সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি করেছিলেন। কারণ, তারা বাংলা কবিতার বাঁধা পথে চলেননি; বরং নতুন পথের দিশা দিয়েছিলেন।
১২ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন