'সুবেদার বেলায়েতই ছিলেন শালদা নদী যুদ্ধের নায়ক'
মুক্তিযুদ্ধের আগে মেজর জেনারেল জামিল উদ্দিন আহসান বীর প্রতীক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ও তার খালাতো ভাই ত্রিপুরার মেলাঘরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। জুন মাসে তাকে বাংলাদেশ ওয়ারকোর্সে পাঠানো হয়। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নং ইস্ট বেঙ্গলের অধীনে যুদ্ধ করেন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট চা-বাগানের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২ নম্বর সেক্টরে তাকে যোগ দেওয়ার আদেশ দিয়ে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের চার্লি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে শালদা নদী যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। জামিল উদ্দিন আহসান অংশ নিয়েছিলেন শালদা নদী রণাঙ্গনের সর্বশেষ ১৫ নভেম্বরের বিখ্যাত যুদ্ধে। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামিল উদ্দিন আহসান কথা বলেন শালদা নদীর বিখ্যাত যুদ্ধ ও শালদা নদী রণাঙ্গন নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমাদ ইশতিয়াক।
শালদা নদীর যুদ্ধ কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?
শালদা নদী এমন একটি নদী যেটি ভারত থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে এসেছে। শালদা নদী স্টেশনটা ছিল ভারত সীমান্তবর্তী। শালদা নদী স্টেশনেই ছিল পাকিস্তানিদের শেষ অবস্থান। নদীর অপর পাড় ধরে পাকিস্তানী বাহিনীর ৩০ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। ওরা ডিফেন্স নিয়ে কসবা পর্যন্ত চলে গেছে। আমরা ছিলাম তাদের সম্মুখে। আমরাও ট্রেঞ্চের মধ্যে ওরাও ট্রেঞ্চের মধ্যে। প্রতিদিন গোলাগুলি হয়। ওরা নিয়মিত আর্টিলারি ও মর্টার ফায়ার করতো। আমরাও করতাম। আমি যাওয়ার আগে পাকিস্তানিরা শালদা নদী ও মন্দভাগের রেলস্টেশন ধরে একবার দখল করে নিয়েছিল। তারপর আমরা ওটা আক্রমণ করে দখল করে নিয়েছিলাম। ওই যুদ্ধে আমি যাওয়ার আগে ওরা বিমান হামলাও করেছিল। মন্দভাগ এবং শালদা নদী গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো এই রেললাইন ধরে ঢাকা চট্টগ্রাম যাওয়া লাগতো। এটি ছিল তাদের লাইফ লাইনের মতো। আগস্টের শেষের দিক থেকে রেলস্টেশন যে আমাদের দখলে এলো কেবল একবার ছাড়া তা আমাদের কখনোই আর হাতছাড়া হয়নি। ফলে পাকিস্তানিদের যোগাযোগ করতে হতো সড়ক পথে। তাদের সব লজিস্টিক সাপোর্ট সব রাস্তা দিয়ে যেত। রেললাইনটি আর ব্যবহার করতে পারেনি তারা।
আপনি শালদা নদী যুদ্ধে যুক্ত হলেন কীভাবে?
মুক্তিযুদ্ধের আগে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। আমি এবং আমার খালাতো ভাই মমতাজ আমরা এপ্রিলের শেষের দিকে কুমিল্লা হয়ে আগরতলায় গিয়ে পৌঁছে মেলাঘরে হাজির হলাম। সেখানে আমাদের ট্রেনিং হলো। যেহেতু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রলম্বিত হচ্ছে তাই বেশি অফিসারের প্রয়োজন হলো তাই ট্রেনিংয়ের এক পর্যায়ে জুন মাসের মাঝামাঝি প্রথম বাংলাদেশ ওয়্যারকোর্সের হয়ে আমি নির্বাচিত হলাম। আমাদের ৬১ জনকে অধিকতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হলো ভুটান সীমান্তবর্তী ভারতের মূর্তি বলে একটা জায়গা আছে। ওই জায়গাটা জঙ্গল টাইপের। ওখানেই আমাদের ট্রেনিং হলো।
ট্রেনিংয়ের পর আপনার পোস্টিং প্রথম কোন সেক্টরে হলো?
মূর্তিতে তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে আমার পোস্টিং হলো ৩ নম্বর সেক্টরে ১১ ইস্ট বেঙ্গলে। তখন ১১ বেঙ্গল কেবল তৈরি হচ্ছে। চুনারুঘাটের খোয়াই সাব সেক্টরে আমি যুদ্ধ করলাম। অক্টোবরের শেষের দিকে আবার সিদ্ধান্ত হলো। আমি এবং আমার কোর্সমেট ফজলুর পোস্টিং হলো ৪র্থ বেঙ্গলে। ৬ নভেম্বর ৩ নং সেক্টর থেকে ২ নম্বর সেক্টর হয়ে যোগ দিলাম ৪র্থ বেঙ্গলে। আমার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন ক্যাপ্টেন গাফফার। তিনি খুব দুর্ধর্ষ অফিসার ছিলেন। আমরা এভাবেই শালদা নদীতে এলাম। একটা ব্যাটেলিয়নে চারটা কোম্পানি থাকে। আমি চার্লি কোম্পানির কমান্ডার হলাম। আমি আসার আগে এই কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন কিংবদন্তী মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আবদুল ওহাব বীর বিক্রম। আমি যোগ দেয়ার পরে তিনি সিনিয়র জেসিও হলেন।
আপনাদের অবস্থান তখন কোথায়, কেমন ছিল?
আমাদের অবস্থান ছিল তখন নদীর উত্তর পাশে। দক্ষিণ পাশে ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থান। মাঝেমাঝেই আমরা তাদের ভেতরে গিয়ে অ্যামবুশ রেইড পরিচালনা করতাম। আমার বাম পাশে ছিলেন আমার খালাতো ভাই মমতাজ। ডান দিকে ছিলেন হাশমি, তার ডান দিকে ছিল ফজলু। আমরা ৪ জনই ছিলাম কোর্সমেট। আমাদের আরও উত্তরে ছিল নাইন বেঙ্গল। যারা কসবা মনতলায় যুদ্ধ করেছে। এভাবেই আমরা বামের থেকে নিয়ে ডানের দিকে ডিফেন্সের মতো ছিলাম। আমাদের ট্রেঞ্চ বাঙ্কারের মধ্যেই থাকতে হতো।
আপনি আসার পর প্রথম আক্রমণ কখন হলো?
আমি আসার একদিন পরেই সিদ্ধান্ত হলো আমরা আক্রমণ করবো। তবে প্রথম আক্রমণ হলো ১৪ নভেম্বর। এর মধ্যে আমার নেতৃত্বে ছোটখাটো অপারেশন হয়েছে। এই অ্যামবুশ, এসব আরকি। তখন রোজার সময়। শালদা নদী স্টেশন পাকিস্তানিদের দখলে। সামনে একটি মেশিনগান বসানো ছিল, ওটা ছিল ওদের সর্বশেষ পজিশন। ওখান থেকে শুরু করেই তারা পশ্চিম দিকে চলে গিয়েছিল পুরো শালদা নদী ধরেই তাদের বাঙ্কার ছিল। ১৪ নভেম্বরে আমার কোম্পানির পরিকল্পনা ছিল আমরা পাকিস্তানিদের সামনের দিকে যাবো। তারপর ওদের বাঙ্কারের সামনে দিয়ে কয়েকটি রেইড করবো কিছু আক্রমণ করে সকালের মধ্যেই ফিরে চলে আসবো। আমাদের বাম পাশে ছিল নায়েব সুবেদার বেলায়েতের ৮ নম্বর প্লাটুন, মাঝখানে ছিল মঙ্গল মিয়ার ৭ নম্বর প্লাটুন। এই প্লাটুনের কোম্পানি কমান্ডার ছিলাম আমি এবং সুবেদার ওহাব। ডান পাশে ছিল নায়েব সুবেদার শহীদের ৯ নম্বর প্লাটুন। গভীর রাতে আমরা বেরিয়েছি। আমরা তখনো সেহরিও খাইনি। আমরা বেরিয়ে গেছি, দুই ব্যাটেলিয়নের মাঝে অনেক বড় ধানখেত, বিস্তীর্ণ খোলা জায়গা। চারপাশে গ্রামগুলোও তখন পরিত্যক্ত। আমরা একটা গ্রামের মধ্যে যখন ঢুকে গেছি তখন ধানখেতে শহীদের ৯ নম্বর প্লাটুন ছিল। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী টের পেয়ে গিয়েছিল আমরা সামনে অগ্রসর হচ্ছি। তখন তারা ফায়ার শুরু করলো। আমরাও ফায়ার শুরু করলাম। এদিকে সুবেদার শহীদ খোলা মাঠের মধ্যে, তবে ওর সাথে সবার ওয়্যারলেসে কথা হচ্ছে। তখন শহীদ বললো আমি তো এগুতে পারছি না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা পিছু হটবো। এরই মধ্যে ওরা আর্টিলারি ফায়ার শুরু করলো। একপর্যায়ে তারা এয়ার বার্স্ট মারা শুরু করলো। একই সঙ্গে তারা ইলুমিনিটিং বো মারতে শুরু করলো। তখন আমরা বেকায়দায় পড়ে গেছি। ফায়ারিং চলছে। এরই মধ্যে আমরা পিছিয়ে চলে এলাম।
এটি কি ১৪ নভেম্বর রাতের ঘটনা?
হ্যাঁ। ১৫ তারিখ সকাল হবে আরকি। তো তখন ভোর হয়ে গেছে। যখন আমরা পেছনে চলে আসছি ফেরত তখন বাম দিকে নায়েব সুবেদার বেলায়েত ভালো অবস্থানে ছিল। তিনি তখন নদীর পাড় বরাবর। তিনি ওখানে গিয়ে ফায়ারিং শুরু করলেন। তখন আমাদের মর্টার ইউনিটও ফায়ার করতে শুরু করলো। আমাদের মুজিব ব্যাটারিও আক্রমণ শুরু করলো। তখন দিনের আলো হয়ে যাচ্ছে। আমরা নদীর ওপারে পাকিস্তানি বাহিনীর পজিশন দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু ধোঁয়ায় পাকিস্তানিরা আমাদের পজিশন দেখতে পায়নি। ওরা তখন ট্রেঞ্চের মধ্যে, আর আমরা গাছের আড়ালে বাঁধের উপরে। তখন আমাদের ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার ক্যাপ্টেন গাফফার কোনাবনে অর্থাৎ ব্যাটেলিয়ন হেডকোয়ার্টারে। বেলায়েত ওয়্যারলেসে বললেন, 'স্যার আমরা খুব ভালো পজিশনে আছি। আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন তাহলে আমি যুদ্ধ চলমান রাখি। আমি ওয়্যারলেসে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি সিও বললেন অসুবিধে নেই। প্রয়োজনে আমরা আবার অপারেশন করবো। মন খারাপ করার কিছু নেই।
কিন্তু সুবেদার বেলায়েত বললেন, না স্যার আপনি অনুমতি দেন আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাই। তখন ক্যাপ্টেন গাফফার তাকে অনুমতি দিয়ে বললেন, 'ঠিক আছে, আপনি যদি মনে করেন তাহলে যুদ্ধ করেন।'
ক্যাপ্টেন গাফফার তখন কি এখানে নাকি কোনাবনে?
ক্যাপ্টেন গাফফার তখন ব্যাটেলিয়ন হেড কোয়ার্টার কোনাবনে।
তারপর কি হলো? আপনাদের অবস্থান তখন কোথায়?
আমরা তখন কোম্পানি হেড কোয়ার্টারে চলে এসেছি। সুবেদার বেলায়েত যুদ্ধ করছেন তখনো। আমরা মানে আমি সুবেদার ওহাবসহ বাকিরা ট্রুপস নিয়ে তার সঙ্গে যোগ দিলাম। রিকোয়েললেস রাইফেল নিয়ে আমরা তার পেছন থেকে পাকিস্তানিদের উপর ফায়ার করতে লাগলাম। আমাদের মর্টার ইউনিটও ফায়ার দিতে লাগলো। একই সঙ্গে চললো আর্টিলারি ফায়ার। তখন পাকিস্তানিদের পক্ষে অবস্থানে টিকে থাকা ব্যাপক মুশকিল হয়ে গেল।
ওরা কি এই যুদ্ধে বিমান হামলা করেছিল?
ওরা তখন বিমান হামলার জন্য বারবার ওয়্যারলেসে সাহায্য চাইছল কিন্তু বিমান সাহায্য আর আসেনি। আবার তারা আর্টিলারি হামলা চালালেও কোনো কাজে আসেনি। কারণ তাদের সব আর্টিলারি ফায়ারই আমাদের সামনে এসে পড়েছে। আমরা স্পষ্ট দেখছি স্টেশনে যে ওদের মেশিনগান ছিল। কারণ ওরা আগের থেকেই ওখানে থাকায় আমাদের পজিশনটা ওরা জানে। ওরাও তখন ফায়ার করছিল। তখন আমাদের বামপাশে ছিল মমতাজের কোম্পানি। তখন আমি বললাম তোমরা পাহাড় থেকে নেমে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করো। ওরাও এসে তখন পাকিস্তানিদের উপর ফায়ার করতে করতে পাহাড় থেকে নেমে এলো। তখন দুপুর হয়ে গেছে। শীতকাল বলে নদীতে পানি কম। আমরা নদীটা পার হয়ে চার্জ করতে করতে তাদের বাঙ্কারের মধ্যে উঠলাম। তখন থেকেই ওরা পালানো শুরু করলো। আমি দেখতে পেলাম স্টেশনের মেশিনগানটা নিয়ে তারা স্টেশনের বাঁধ ধরে পালিয়ে গেল। বহু সৈন্য আহত হয়েছিল যাদেরকে বাকিরা টেনে নিয়ে গেল। ওখানে তাদের গোটা কোম্পানিই তখন ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা তখন বাঙ্কারে বাঙ্কারে চার্জ করে দখল করলাম। এবং রাজাকার ও পাকিস্তানিদের বেশ কয়েকটি মৃতদেহ পেলাম। ওখান থেকে আমরা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, রাইফেল, খাবার রসদ পেলাম।
আপনারা কয়টা নাগাদ সম্পূর্ণ দখল করলেন?
দুপুর ২-৩টার মধ্যে আমরা সবকিছু দখল করে ফেললাম। মৃতদেহগুলো বাঁশের মধ্যে বেঁধে নদী পার করে পেছন দিকে নিয়ে গেলাম। আর সব বাঙ্কার আমাদের দখলে চলে আসে। এর আগে আমাদের এলএমজি ম্যান এলএমজি চালনারত অবস্থাতেই নায়েক সুবেদার সিরাজ শহীদ হয়েছিলেন।
সন্ধ্যার আগেই আমাদেরকে পজিশন নিতে হয়। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে অন্ধকার হয়ে গেলে সাধারণত পরাজিত বাহিনী কাউন্টার অ্যাটাক করে। যতো তাড়াতাড়ি পারে সংগঠিত হয়ে কাউন্টার অ্যাটাক করার কারণ হলো পুনর্গঠিত হওয়ার কারণে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। আর সেই সুযোগেই আক্রমণ করা। এদিকে ভারতীয় একটি কোম্পানি আসার কথা ছিল যদিও তারা আসেনি।
ভারতীয় ওই বাহিনী কেন আসেনি?
ওটা মূলত রিজার্ভ হিসেবে রাখা ছিল। আমাদের আর দরকার হয়নি। যদি দেখা যেতো ওরা আমাদের উপর কাউন্টার অ্যাটাক করেছে তাহলে আসতো। যেহেতু ওরা করেনি তাই আর আসার দরকার পড়েনি। আমরা রাতের মধ্যেই মেশিনগান, এলএমজি গান বসিয়ে পজিশন ঠিক রেখেছি। রাতের মধ্যেই আমরা একটি বাঁশের সাঁকো বানিয়ে ফেলি। এর ফলে নয়নপুর বাজার পর্যন্ত আমাদের দখলে এসে যায়। গোটা রাত আমরা সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। সারারাত আমরা জেগে ছিলাম।
নায়েক সুবেদার বেলায়েত বীর উত্তম কীভাবে শহীদ হলেন?
সেটিই বলছি। সারারাত জেগে ছিলাম, একসময় সকাল হয়ে গেল। যেহেতু আমরা নতুন অবস্থান নিয়েছি এখানে সেহেতু নায়েব সুবেদার বেলায়েতের প্লাটুন ছিল বাঁয়ে। সকালে একজন ওয়্যারলেস অপারেটর, আরেকজন রানারকে নিয়ে নায়েব সুবেদার বেলায়েত রেকি করার জন্য নয়নপুর বাজারের থেকে একটু সামনের দিকে গেলেন। তখন সকাল ১০টা হবে আনুমানিক। দূরে তখন পাকিস্তানি বাহিনী। তারা সম্ভবত বেলায়েতকে দেখতে পেয়েছিল। তারা দূর থেকেই মেশিনগান ফায়ার করে। গুলি তাঁর বুকে এসে লাগে। তিনি পড়ে যান। এরপর তাকে আমরা গ্রামের একটি দরজার ভাঙা একটি তক্তায় উঠিয়ে ব্যাটেলিয়ন হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়ে দিলাম। কিন্তু ততক্ষণে তিনি শহীদ হয়েছেন।
তাকে তো দাফন করা হয়েছিল কোল্লাপাথরে?
হ্যাঁ। তাকে দাফন করা হয় কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিস্থলে। আমরা ভীষণ মর্মাহত হই কারণ সুবেদার বেলায়েতই ছিলেন শালদা নদী যুদ্ধের নায়ক।
ahmadistiak1952@gmail.com