কোনো জায়গা আর নিরাপদ নয়: বিবিসি ইউক্রেনের সম্পাদক

স্টার অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে হামলার পর সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ইউক্রেনের সম্পাদক মার্তা শোকালো। 

মার্তা প্রতিবেদনে লিখেছেন, আমার এক সহকর্মীর কাছ থেকে একটি মেসেজ পেয়ে রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠি। সেখানে দেখা যায় ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন আক্রমণের ঘোষণা দিচ্ছেন। 

এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় বিস্ফোরণ। আমার কক্ষ থেকে সেটা শুনতে পাচ্ছিলাম। শহরের বিভিন্ন অংশের মানুষ আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ পাঠিয়ে জানাচ্ছেন, তাদের কাছাকাছি অঞ্চলেও বিস্ফোরণ ঘটছে।

সামনের সম্মুখভাগে থাকা পূর্বাঞ্চলের বদলে কিয়েভে হামলা হতে যাচ্ছে, এটা বুঝতে পারাটা ছিল বড় একটা ধাক্কা।

হামলার পর থেকে এখানকার সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। তাহলে সত্যিই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি আরেকটি ভয় হলো ডিনেপার নদীর ওপর থাকা সেতুগুলোতে বোমা ফেলা হবে, যাতে শহরের পূর্ব-পশ্চিম অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বিস্ফোরণ চলতে থাকে।

আমি আমার ১০ বছরের ছেলেকে কাপড়-চোপড় পরিয়ে রেডি করি। এরপর কিছু নাস্তা করি, জানালা থেকে যতটা সম্ভব দূরে বসে। কিন্তু সে এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে, বমি করে ফেলেছিল। আমরা কিছু মোমবাতি এবং পানি নিয়ে আমাদের সেলারে চলে যায়। যেন পরিস্থিতি খারাপ হলে কিছুটা রক্ষা পাই। 

আমার বাড়ির কাছাকাছি সুপার মার্কেটের বাইরে এবং এটিএম বুথের সামনে মানুষের বিশাল সারি রয়েছে, যাদের অনেকেরই টাকা ফুরিয়ে গেছে। অনেক পেট্রোল স্টেশনে জ্বালানী ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে। আতঙ্কের একটা হাওয়া বইছে, সবাই জানি যে গোটা দেশ এখন আক্রমণের মুখে।

শহরের বাইরের রাস্তাগুলো যানজটে অবরুদ্ধ, তবে সেটি একটি বিপজ্জনক যাত্রা। ট্র্যাফিকের দীর্ঘ, ধীর গতির সারিগুলোতে বসে মাঝ পথে জ্বালানী ফুরিয়ে যেতে পারে। ট্রেন চলাচল করছে, কিন্তু সেখানে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির সামরিক আইন জারির পর ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।

শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুই ধ্বংস করা হয়নি- আমাদের কাছে দেশের বিভিন্ন শহরে আবাসিক ভবনের ছবি রয়েছে যেখানে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। 

রাশিয়ার বোমা হামলা দেশের সব অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি পোলিশ সীমান্তের কাছাকাছি লভিভে, আজ সকালে সাইরেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং একজন সহকর্মীকে বম্ব শেল্টারে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

আরেক সহকর্মী বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতে তার পরিবারকে নিয়ে কিয়েভ ছেড়ে গেছেন। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল নিরাপদ হতে পারে, কিন্তু উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ থেকে আক্রমণের কারণে দেশটিতে আর কোনো সত্যিকারের নিরাপদ জায়গা নেই।