ইউক্রেনে সেনা অভিযানের নির্দেশ দিলেন পুতিন
ইউক্রেনে 'বিশেষ সামরিক বাহিনী' পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি টেলিভিশন ভাষণে এই নির্দেশ দেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের 'কোনো পরিকল্পনা নেই' উল্লেখ করে ভাষণে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের জনগণ 'স্বাধীনভাবে' ঠিক করে নেবে কারা তাদের দেশ শাসন করবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রুশ সেনাদের ইউক্রেনে জনগণকে রক্ষার পাশাপাশি পুতিন ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, 'সব ধরনের রক্তপাতের জন্য ইউক্রেনের শাসকরা দায়ী থাকবেন।'
বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, পুতিনের ভাষণের খানিক পরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিয়েভের মূল বিমানবন্দরের কাছে গোলাগুলি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন মতে, ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযান ঘোষণার পর এখন সেখানে রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ এখন সময়ের ব্যাপার।
এতে আরও বলা হয়, পুতিনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থি সশস্ত্র সংগঠনের নেতারা ইউক্রেনের আক্রমণ থেকে তাদের রক্ষার আবেদন জানান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইউরোপের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থা ইউক্রেনের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
ইউরোপিয়ান অরগানাইজেশন ফর দ্য সেফটি অব এয়ার নেভিগেশনের মহাপরিচালক আমন ব্রেনান আজ ভোরে টুইটার বার্তায় বলেছেন, 'সবাইকে এই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'
এ ছাড়াও, ইউক্রেন আজ ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তার দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এ দিকে, জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি আলেকসিভিচ নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকে বলেছেন, 'ইউক্রেনে আজকের সংঘাতের মূল হোতা ইউক্রেনই। এই দেশটিই গত কয়েক বছর ধরে মিনস্ক শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করে আসছে।'