রাশিয়া কি কিয়েভ দখল করবে?
ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের ১২তম দিনে জোর আলোচনা, রাশিয়া কিয়েভ দখল করবে কবে? ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।
আজ সোমবার কিয়েভসহ ৪টি শহরে রাশিয়া একতরফা সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ায় সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। অনেকে মনে করেছেন, কিয়েভে ঢোকার আগে সেখান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওলেকসি আরেসতোভিচ বলেছেন, গত রাত থেকে কিয়েভের আশেপাশে, এর উত্তরে চেরনিহিভ, দক্ষিণে মিকোলাইভ এবং দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ সেনারা থেমে থেমে গুলি চালাচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেন সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলেছেন যে রাশিয়া কিয়েভে হামলার আগে সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ জড়ো করছে।
এ ঘটনাকেও কিয়েভে ঢোকার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
হামলার 'ছক' হিসেবে রুশ সেনারা ট্যাংক ও সাঁজোয়াযান নিয়ে কিয়েভের পার্শ্ববর্তী ইরপিন শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রুশ কমান্ডাররা ইউক্রেনের চেরনোবিল হয়ে বেলারুশ থেকে জ্বালানি তেল আনছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কিয়েভমুখী রাশিয়ার সেই আলোচিত ৪০ মাইল দীর্ঘ কনভয় এখনো 'থেমে আছে'।
প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি চূড়ান্ত হামলার আগে 'রুশ ভাল্লুক'র লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া?
পশ্চিমের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেই সামরিক কনভয় কিয়েভের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৯ মাইল দূরে আছে। যদিও এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, কনভয়টি কিয়েভ থেকে ১৬ মাইল দূরে আছে।
ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ, খাদ্য-জ্বালানি সংকটসহ অন্যান্য জটিলতায় পড়ে কনভয়টি 'গতি ধীর' করেছে বলেও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, প্রায় ৯৫ শতাংশ 'যুদ্ধশক্তি' নিয়ে রশিয়া ইউক্রেনে ঢুকেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাশিয়া তার রিজার্ভ সেনা আনছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রুশ সেনারা ইউক্রেনের খারকিভ, চেরনিহিভ, সুমি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মিকোলায়েভ শহর ঘিরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিএনএন জানিয়েছে, কিয়েভের বাইরে বেসামরিক নাগরিকেদের সরে যাওয়ার পথে রুশ সেনারা হামলা চালালে ২ শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে একতরফা সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে অনেকে জল-স্থল-আকাশ পথে কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরগুলোয় রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার অংশ হিসেবেই মনে করছেন।
যে কারণে রাশিয়ার কিয়েভ প্রয়োজন
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সব সময়ই বলে আসছেন, মস্কোর দাবি না মানা পর্যন্ত ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চলবে। তার দাবির প্রথমেই রয়েছে 'রাশিয়ার নিরাপত্তা'।
রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের হুমকি থেকে নিরাপদ রাখার অংশ হিসেবে পুতিন চেয়েছিলেন তার পশ্চিম সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী ইউক্রেন যেন ইউরোপমুখী না হয়।
কিন্তু, ইউক্রেনের ক্ষমতাসীন সরকার ইউরোপের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাকেই বারবার তুলে ধরেছেন। পুতিন যদি ইউক্রেনকে তার দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে চান, তাহলে সেখানকার বর্তমান সরকারের পতনের পাশাপাশি দেশটির রাজধানী কিয়েভ তার প্রয়োজন।