গ্যাস বন্ধ: ‘চুক্তির লঙ্ঘন’ বলছে বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড বলছে ‘সরাসরি আক্রমণ’
রুবলে অর্থ পরিশোধ না করায় পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম। এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশ ২টি।
বিবিসির তথ্যমতে, ২ দেশের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, গ্যাস বন্ধ করার মাধ্যমে রাশিয়া 'ব্ল্যাকমেইল' করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে তারা।
আজ বুধবার বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিরিল পেটকভ গ্যাজপ্রমের পদক্ষেপকে 'চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, তিনি বুলগেরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। বুলগেরিয়া ও গ্রিস জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাউইকি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে তার দেশের উপর 'সরাসরি আক্রমণ' করার অভিযোগ তুলেছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোরাউইকি পোলিশ আইনপ্রণেতাদের অন্যান্য পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, 'পোল্যান্ডের রুশ গ্যাস দরকার হবে না।'
অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি বলেন, 'এটি পোল্যান্ডের ওপর সরাসরি আক্রমণ। তবে আমরা নিজেদের প্রস্তুত করছিলাম।'
পোল্যান্ডের একটি টার্মিনালের উৎপাদন ৬ বিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) থেকে ৭-৮ বিলিয়ন ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে জানান তিনি।
মোরাউইকি আরও বলেন, বাল্টিক গ্যাস পাইপলাইন নামে নরওয়েতে একটি নতুন গ্যাস পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে পোল্যান্ডে ১০ বিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি সরবরাহ করা হবে।
এ ছাড়া, দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি পোল্যান্ড স্লোভাকিয়া, জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আন্ত:সংযোগ থেকেও গ্যাস পাবে। কিছুদিনের মধ্যে লিথুনিয়ার সঙ্গেও গ্যাস বিষয়ক আন্ত:সংযোগ শুরু হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোলিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এই ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করব না। আমি নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, পুতিনের পদক্ষেপ পোল্যান্ডের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে না।'