ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানির জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানির পররাষ্ট্রনীতি রীতিমতো 'ইউ-টার্ন' নিয়েছে। রুশ জ্বালানির ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল জার্মানি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনে ভারি অস্ত্র পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে।
আজ বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, জার্মানির সরকার নীতি পরিবর্তন করে ইউক্রেনে ৫০টি বিমানবিধ্বংসী ট্যাংক পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেনযুদ্ধে 'বিভ্রান্তিকর' পররাষ্ট্রনীতির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জার্মানি ঘরে-বাইরে ব্যাপক চাপের মুখে আছে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টাইন লামব্রেখট গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, জার্মান সরকার ইউক্রেনে 'গেপার্ড' ট্যাংক পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে।
এ ছাড়াও, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মানির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, 'এর মাধ্যমে ইউক্রেনের সক্ষমতা বাড়বে।'
জার্মানির কিয়েল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি পলিসির ফেলো মার্সেল দিরসুস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। জার্মানির পক্ষ থেকে আরও সহায়তা আসতে পারে।'
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার জার্মানির প্রতিরক্ষা সংস্থা রেইনমেটাল সরকারের কাছে ১০০টি পুরনো মারদার যুদ্ধযান ও ৮৮টি পুরনো লিওপার্ড ওয়ানএফাইভ ট্যাংক ইউক্রেনকে দেওয়ার অনুমোদন চেয়েছিল। এরপর, সরকারের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে 'গেপার্ড' ট্যাংক পাঠানোর অনুমোদনের সংবাদ জানা যায়।
আল জাজিরা আরও জানিয়েছে, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শ্লোলজ সতর্ক করে বলেছেন, মস্কো যদি মনে করে জার্মানি এই সংঘাতে জড়িয়েছে তাহলে তা 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে'র দিকে মোড় নিতে পারে।
তবে তার সরকারের ২ অংশীদার গ্রিন পার্টি ও ফ্রি ডেমোক্রেট পার্টির সদস্যরা মনে করেন, ইউক্রেনীয়দের জন্য জার্মানির আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।