মাদক চোরাকারবারে তালিকাভুক্ত ২ পৃষ্ঠপোষক নির্বাচনে প্রার্থী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতাদের তালিকায় থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২ জন এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তারা হলেন—মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন ও মো. হান্নান মিয়া।

bbaria_list_2.jpg

মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে এবং মো. হান্নান মিয়া আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে নির্বাচন করছেন।

চতুর্থ ধাপের নির্বাচন আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

আখাউড়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার এই উপজেলার ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে ২৪৭ প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন 'আনারস' প্রতীক ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড থেকে মো. হান্নান মিয়া সদস্য পদে 'ভ্যানগাড়ি' প্রতীক পেয়েছেন।

গত ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে।

সেই তালিকায় আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন ও দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. হান্নান মিয়ার নাম থাকায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।

স্থানীয়রা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের আমোদাবাদ গ্রামের মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই মাদক চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ক্ষমতার প্রভাবে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে তাকে ধরতে পারেনি।

এলাকাবাসী জানায়, ক্যাসিনো মামলায় গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সহযোগী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ৩ বছর আগে মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন আজমপুর রেলস্টেশনের পাশে রেলওয়ের ৫ শতক জায়গা দখল করে মার্কেট তৈরি করেন। তিনি মার্কেটের দোকানের ভাড়া নিচ্ছেন। সেই জায়গা দখলমুক্ত করতে রেল মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে।

নুরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. হান্নান মিয়ার নামে মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি প্রতারণা মামলাও আছে।

গত ২০১৮ সালের ১১ মার্চ মাদক চোরাচালান মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় হান্নান তার পার্শ্ববর্তী ছোট কুড়িপাইকা গ্রামের রিকশাচালক সেলিম মিয়াকে অর্থের লোভে 'হান্নান' সাজিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে পাঠান। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়ার পর সেলিম জেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকৃত ঘটনা বললে তারা বিষয়টি আদালতকে জানায়।

এরপর তৎকালীন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শফিকুল ইসলাম প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেয়ে সেলিমকে আটকের নির্দেশ দেন এবং জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করান।

জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক নুরুন্নবী ভূঁইয়ার তদন্তের পর উভয়ের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় পৃথক প্রতারণা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন আদালত। মো. হান্নান মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাসিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন ও মো. হান্নান মিয়াকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যায় না। তারা মাদক চোরাকারবারি কি না তা দেখবে থানা পুলিশ।'

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, '২০১৮ সালে আমি এই থানায় ছিলাম না। ফলে তালিকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অফিশিয়াল নির্দেশ থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।'

আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক চোরাকারবারীদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতাদের তালিকায় নাম থাকার তথ্য আমার জানা নেই। আমার এলাকায় মাদকের কোনো স্থান নেই। আমি নিজেই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি।'

ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. হান্নান মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি তালিকার কথা শুনছি, তবে বিস্তারিত জানি না। সরকারের লোকজন তৃণমূল পর্যায়ে এসে দেখুক, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ পায় কি না। আমি ২ বার জনপ্রতিনিধি হয়েছি। আমার বিপক্ষে লোক আছে।'