প্রস্তাবিত নাম যেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়
সার্চ কমিটির সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের বৈঠকে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, প্রস্তাবিত সব নাম যেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আজ শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে তারা এ কথা জানান।
৭১ টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল বাবু বলেন, যাদেরই নির্বাচন করবেন, অন্তন কদিন আগে মিডিয়ায় দেওয়ার জন্য। মিডিয়া যদি নামটা জানতে পারে তাদের সম্পর্কে গণমানুষের কোনো অভিযোগ যদি থাকে, যেটা পরে নির্বাচিত হয়ে গেলে কেলেঙ্কারীর কারণ হয়। উনারা এটা বিবেচনা করবেন বলেছেন। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন দেখে যাতে যারা ধর্মীয় ও জাতিগত দিক থেকে সংখ্যায় কম—আমরা সংখ্যালঘু বলতে চাই না এবং নারী, নির্বাচনে তারা সবচেয়ে বেশি সহিংসতার সম্মুখীন হয়, সেখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকলে ভোটদানে সাহস পাবে। আর্মি, পুলিশ, প্রশাসন, জুডিশিয়ারি এ জাতীয় বিভাজনের না যেয়ে সিভিল সোসাইটির অবসরপ্রাপ্ত যে কোনো কর্মকর্তা অথবা লেখক-বুদ্ধিজীবী বিভাজন না করে ১০ জনের নাম গ্রহণ করতে বলেছি এবং গণমাধ্যম থেকেও আমরা একজন-দুজনকে নির্বাচন করতে বলেছি। কেননা নির্বাচন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া একজন সিনিয়র সাংবাদিক অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেন। পাশাপাশি নারী প্রতিনিধিত্ব যাতে বেশি থাকে সেটা বলেছি।
ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের ওপর গুরু দায়িত্ব এই কারণে, বিগত নির্বাচন কমিশন নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। আগামী নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন করতে হলে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন দরকার। যেটি কারার দায়িত্ব পড়েছে সার্চ কমিটির ওপর। সত্যি কথা সরাসরি বলতে হবে, যে কোনো নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভিকটিম হয় সংখ্যালঘুরা। এই নির্বাচন কমিশনে কখনোই কিন্তু সংখ্যালঘু-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ছিল না। তাদের যাতে প্রতিনিধিত্ব থাকে। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যাদের বিতর্ক আছে, স্বাধীনতা নিয়ে যাদের বিতর্ক আছে সে রকম কোনো লোক যাতে এই কমিশনে না আসে। আমরা আস্থা রেখেছি, তারা এমন ১০টি নাম পাঠাবেন সেই নামগুলোর মধ্যে এমন নাম থাকা উচিত যারা আগামীতে আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন। বিতর্ক হোক যা-ই হোক, ১০টি নামই প্রকাশ্যে দিতে হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটা প্রস্তাব হলো সব নাম প্রকাশ করতে হবে। যত নাম এসেছে সব প্রকাশ করলে জনসাধারণ দেখতে পারবে। আমরা দুএকজনের নাম প্রস্তাব করেছি। আমি ৫টি নাম দিয়েছিলাম, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎকে সিইসি হিসেবে, সদস্য হিসেবে আর্মির প্রাক্তণ চিফ ইকবাল করিম ভূঁইয়া, বিচারপতি নাজমুন আরা, বদিউল আলম মজুমদার এবং সুলতানা কামাল। যেহেতু ১০টি নাম দেওয়ার সুযোগ আছে, আরও ৩টি নাম বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছি। তারা হলেন, সাবেক আইন সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল, মতিয়ার সেক্রেটারি ছিলেন শাওকত আলী, সাদেক শামস। যাকে মোনায়েম খান বান্দরবানে বদলি করে দিয়েছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন যদি নির্বিঘ্ন না হয়। জনগণ যদি ভোট দিতে না যায়, জাতির জন্য কঠিন সমস্যা হয়ে যাবে। বিএনপি আসেনি, আমিও মনে করি সাক্ষাৎ করে লাভ নেই। কিন্তু নাম দিতে বা আলাপ করতে অসুবিধা কোথায়! শুধু তো বিএনপি না, সিপিবি, বাসদ, আমি মনে করি আলাপ করা উচিত তাদের। আমরা তাদের সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো লাগবে। সরকার পরিবর্তন হলো কিন্তু ভালো নির্বাচন কমিশন হলো না, তাহলেও কিন্তু আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না।
এর আগে সকাল ১১টার পরে প্রথম ধাপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০ জন নাগরিকের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তাতে ১৪ জনের মতো অংশ নিয়েছেন। কমিটি ৬০ জন বিশিষ্ট নাগরিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আগামীকাল শেষ ধাপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।