‘সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য ইলিশের ঐতিহ্য ফিরে এসেছে’

নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর

বর্তমান সরকারের সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য ইলিশের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আজ শুক্রবার পিরোজপুরে 'ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের' জেলা পর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, 'এ বছর ইলিশের যে আকার হয়েছে তা আগে কখনো হয়নি এবং এটা কল্পনাতীত। আগে কিছু কিছু ইলিশ আসতো, যেগুলোর কোনো স্বাদ ও গন্ধ পাওয়া যেত না। কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে দিলে তাকে এর নাম বলে দিতে হতো। এখন ইলিশে গন্ধ ফিরে এসেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর এ ইলিশ মাছ ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আলাদা দৃষ্টি আছে। আর তাই ইলিশ রক্ষায় আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যা মৎস্য খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প।'

এ সময় মন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের জীবন্ত জিন ব্যাংক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং এখান থেকে সেগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে নতুন প্রজাতির সুবর্ণ রুই উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি মাত্র ৬ মাসে বড় আকারের মাছে পরিণত হবে এবং খুবই সুস্বাদু হবে। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে ১৫০ কেজি ওজনের একটি মা পাঙ্গাস মাছ আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন করে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী রেজাউল করিম বলেন, 'মাছ কেবল ভাতের সঙ্গে খেতে হবে এই ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মাছ থেকে নতুন নতুন খাদ্য উদ্ভাবন করতে হবে। এজন্য ঋণসহ যে সহযোগিতা প্রয়োজন সরকার তা করবে।'

'দেশে মাছের কোন ঘাটতি নাই' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেলে এ পেশার সঙ্গে জড়িত ৭০ লাখ মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি আরও বেগবান হবে।'

মাছের খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিদেশে সয়াবিন রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, গভীর সমুদ্র থেকে উন্নত জলযান ব্যবহার করে বিদেশি জেলেরা টুনা মাছ ধরে নিয়ে যায়। সেগুলো রক্ষায় সরকার উন্নতমানের জাহাজ কিনবে। আর এজন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২৪৬ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ২০২০ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হবে।

মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং ইলিশ জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার, মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশালের উপপরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী প্রমুখ।