যশোরে হরিহর নদীতে ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি চাষ

মহসিন মিলন, বেনাপোল

যশোরের কেশবপুর উপজেলার হরিহর নদীর ওপর ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা। বসতভিটা ছাড়া যাদের চাষের জমি নেই, এমন কয়েকজন নতুন ধরনের এ চাষাবাদ শুরু করেছেন।

তারা নদীর শেওলা দিয়ে ধাপ তৈরি করে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। তাদের উৎপাদিত সবজি দিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছেন। পাশাপাশি বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভবান হচ্ছেন। 

নদীর ওপর ভাসমান সবজি বেডে চাষ হচ্ছে লাল শাক, সবুজ শাক, পুই শাক, ডাটা শাক, পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া, কচু শাক, পেঁয়াজ ও রসুন। ভাসমান বেডের ওপর মাচা (বান) তৈরি করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষও করা হয়েছে। তাদের সবজি বেড পরিচর্যার জন্য ২টি ডোঙ্গা নৌকা দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় কৃষক নীল রতন বিশ্বাস দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

benapole
ছবি: সংগৃহীত

জানা গেছে, শেওলায় পরিপূর্ণ ছিল হরিহর নদী। ওই নদীর তীরবর্তী মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ার জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যর্থ হয়ে বেকার হয়ে পড়েন। জেলেদের আর্থিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নদীর শেওলাকে কাজে লাগিয়ে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি চাষের ওপর মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ার শতাধিক জেলে সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দেয়।

মধ্যকুল ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনাথ বন্ধু দাস ডেইলি স্টারকে জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা নদীর শেওলা নিয়ে প্রথমে স্তূপ করে রাখেন। শেওলা পচে ধাপ তৈরি হলে তার ওপর দেওয়া হয় ভার্মি কমপোস্ট। এরপর সবজির বীজ বপন করা হয়। বর্তমানে প্রতিজন কৃষক ৩৬টি বেড তৈরি করে তার ওপর সবজি চাষ করেছেন। পর্যায়ক্রমে আরও সবজি বেড তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

benapole
ছবি: সংগৃহীত

রাজবংশী পাড়ার শোভা রানী বিশ্বাস ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি নিজে ওই নদীতে ৩টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। তাতে লাল শাক, সবুজ শাক, পুঁই শাক, ডাটা শাক এবং ভাসমান বেডের ওপর মাচা (বান) তৈরি করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করেন। এতে তিনি সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনির হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যাদের ভিটেবাড়ি ছাড়া কৃষি জমি নেই, তারাই এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কোনো প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই তারা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। ইতোমধ্যে মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ায় সবজি আবাদের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি ও মশলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।'