বাঁধ কেটে মাছের ঘেরে পানি, তলিয়ে গেল ১৭ একর জমির মুগডাল

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

বরগুনার তালতলীতে মাছের ঘেরে পানি সরবরাহ করতে বেড়িবাঁধ কাটায়, স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ১৭ একর জমির মুগডাল এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার খোট্টার চর এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে।

আজ বুধবার সরেজমিনে মুগডাল খেতের কাছে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ কেটে পানি উঠানোর কারণে মুগডাল খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিতে আহাজারি করছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, খোট্টার চর এলাকায় গত বছর প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পাশের নদীর লবণাক্ত পানির কবল থেকে কৃষকদের ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধ নির্মাণের পর স্থানীয় ৯ জন কৃষক ঋণ নিয়ে চলতি বছর ১৭ একর জমিতে মুগডাল চাষ করেন। এতে তাদের প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়।

মুগডাল ফলন ভালো হওয়াতে ঋণ পরিশোধ করে লাভের আশাও ছিল তাদের। এক মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলার কথা ছিল।

কিন্তু তার আগেই স্থানীয় প্রভাবশালী নবী হোসেন জোমাদ্দার বেড়িবাঁধ কেটে ব্যক্তিগত মাছের ঘেরে নদীর জোয়ারের পানি সরবরাহ করেন। এতে কৃষকদের ১৭ একর জমির মুগডাল পানিতে তলিয়ে যায়।

কৃষক ইসমাইল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জোয়ারের পানিতে মুগডাল খেত তলিয়ে গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মুগডাল চাষে লাভ তো হবেই না, উল্টো কীভাবে ঋণ পরিশোধ করা হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।'

img_20220419_154116_1_0.jpg
মাছের ঘেরে পানি দিতে বাঁধ কেটে নদীর পানি আনা হচ্ছে। ছবি: সোহরাব হোসেন/স্টার

'আমরা নবী হোসেন জোমাদ্দারকে বাঁধটি না কাটতে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও, তিনি শোনেননি,' বলেন ইসমাইল।

আরেক কৃষক খলিল মিস্ত্রী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জোর করে বাঁধ কেটে মাছের ঘেরে পানি উঠানোর কারণে আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবী হোসেন জোমাদ্দার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার নিজের জমিতে নির্মিত বাঁধ কেটে পানি উঠিয়েছি। আমার কয়েক লাখ টাকার মাছ বাঁচানোর জন্য পানি উঠিয়েছি।'

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের অনুমতি না নিয়েই বাঁধ কাঁটা হয়েছে। এছাড়া বাঁধ কেটে পানি উঠানোর সুযোগ নেই। 
'এ বিষয়ে কৃষকরা কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে,' যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বরগুনা জেলা কর্মকর্তা মো. প্রিন্স মল্লিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'