চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি দিতে গিয়ে ৩০ একর বোরো ধান নষ্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

বরগুনার তালতলীতে চিংড়ির ঘেরে লবণ পানি দিতে গিয়ে ৩০ একর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের সখিনা ও  নিদ্রার চর গ্রামের এক মাছ চাষি তার ঘেরে লবণাক্ত পানি দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের সকিনা ও নিদ্রার চর এলাকার ২৭ জন কৃষক ঋণ নিয়ে ৩০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করছেন।

গত ৪ এপ্রিল স্থানীয় মালেক আকন আমখোলা খালের স্লুইসগেট খুলে দিয়ে তার চিংড়ি ঘেরে লবণাক্ত পানি আনেন। এ সময় জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে কৃষকদের রোপণ করা বোরো ধানের খেত তলিয়ে যায়।

লবণ পানি যাওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যে বোরো ধানের গাছ শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনির আকন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। মালেক আকন তার মাছের ঘেরে লবণাক্ত পানি আনলে আমাদের এলাকার ২৭ জন কৃষকের বোরা ধানের জমি তলিয়ে যায় এবং সবার জমির ফসল নষ্ট হয়।'

আরেক কৃষক নিজাম জোমাদ্দার বলেন, 'আমার দেড় একর জমির ধান লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়েছে।'

জানতে চাইলে অভিযুক্ত মালেক আকন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি উঠাতে গিয়ে অজান্তে পাশের ফসলি জমিতে লবণ পানি ঢুকে যায়। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ধানের ক্ষতি করিনি।'

যোগাযোগ করা হলে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সি এম রেজাউল করিম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের কোনো ব্যবস্থা নেই।'

তবে এ ঘটনায় দায়ী মালেক আকনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সুপারিশ করা হবে,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওসার হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ ঘটনায় আমার কাছে স্থানীয় কৃষকরা মালেক আকন নামে এক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'