গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, খরচ বাড়ছে খামারিদের

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু, পাবনা

গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশু পালন ও দুধ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের খামারিদের। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে আয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। দুগ্ধ শিল্প রক্ষায় গো-খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

খামারিরা জানান, বর্তমানে এক বস্তা ভালো মানের গমের ভুষি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। কয়েক মাস আগে ছিল ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা। একই ভাবে মাসকলাইয়ের ভুষির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা। দুই থেকে তিন মাস আগেও এর দাম ছিল এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

এক বস্তা খৈল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। যা কয়েকমাস আগে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো। দাম বেড়েছে শুকনো খড়ের। বর্তমানে এক মণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

pabna_photo_dairy_feed-5.jpg
গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। ছবি:আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু/ স্টার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রামখারুয়া গ্রামের গো-খামারি মো. মতিউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দাম বাড়লেও আশানুরূপ দুধের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়েই খাবার কিনতে হচ্ছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুধ উৎপাদন করে তেমন লাভ হচ্ছে না।'

মতিউর বলেন, 'আমার খামারে ৪টি বাছুরসহ ১২টি গরু আছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। ভুষি ও খড় বাবদ দিনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। দুধ বিক্রি করে ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা আসে।'

দুই থেকে তিন মাস আগে এক লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, তিনি জানান।

উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাইকারি বাজারে দুধের দাম খুব একটা বাড়েনি। বর্তমানে খুচরা বাজারে এক লিটার দুধ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে তা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, তিনি আরও জানান।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মধ্যপুংগল গ্রামের খামারি মো. ইয়াকুব আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার খামারে ৫টি গরু থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ লিটার দুধ আসে। যা থেকে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ হয়।'

তিনি বলেন, 'বন্যার কারণে গো-চারণ ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাঠে গরু চরানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কচুরিপানা খাওয়াতে হচ্ছে।'

কচুরিপানা খাওয়ালে দুধের ঘনত্ব কমে উৎপাদন কমে যায় বলে জানান তিনি।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতির সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ অঞ্চলের বেশিরভাগ খামারিই মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং মিল্ক ভিটা থেকে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে দুধ বিক্রি করার দিকে ঝুঁকছেন তারা।'

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যার সময় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। ফলে এ সময় গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়ে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।'