খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, জলাবদ্ধতায় ১০ হাজার একর কৃষিজমি
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া গ্রামে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায়, পানিতে তলিয়ে গেছে হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের প্রায় ১০ হাজার একর কৃষিজমি। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমন চাষাবাদ। বাঁধের কারণে পানি অপসারণ না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। প্রতিকার চেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কাউনিয়া সরকারি খালটি স্থানীয় জুলেখা এলাকার স্লুইসগেটের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই দুই গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কাউনিয়া খালটিতে স্থানীয় নান্নু মোল্লা ২-৩ বছর ধরে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন।
খালের গতি পথের পাঁচটি জায়গায় বাঁধ এবং একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ওই এলাকা এখন ৩-৪ ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বাঁধের কারণে পানি অপসারণ না হওয়ায় ওই দুই গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জমিতে পানি জমে যাওয়ায় কৃষকরা আমন মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফলে, প্রায় ১০ হাজার একর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরকারি কাউনিয়া খালের বাঁধ অপসারণের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন প্যাদাসহ কয়েকজন কৃষক বুধবার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
কৃষক রুহুল আমিন প্যাদা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হলদিয়া গ্রামের নান্নু মোল্লা প্রভাব খাটিয়ে কাউনিয়া খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। পানির কারণে আমন চাষাবাদও বন্ধ রয়েছে। অনেকের বাড়ি ঘরেও পানি ঢুকে পরেছে।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, 'এভাবে পানি জমে থাকলে দুই গ্রামের প্রায় ১০ হাজার একর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা আছে।'
অভিযুক্ত নান্নু মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি খালে বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে, কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে মাছ চাষের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
কিন্তু, তিনি এ বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, কাউনিয়া খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের বিষয়ে অভিযোগ তিনি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, বাঁধ অপসারণ করে কৃষকদের জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।'