`কৃষকের অ্যাপ': প্রান্তিক কৃষকদের নিবন্ধনে কুলাউড়ায় প্রচারণা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার

ন্যায্যমূল্যে আমন ধান বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য প্রান্তিক কৃষকদের `কৃষকের অ্যাপে নিবন্ধনে আগ্রহী করতে অগ্রিম প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা খাদ্য বিভাগ।

কোনো প্রান্তিক কৃষক যেন বাদ না পড়েন, সে লক্ষ্যে আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ কুলাউড়া উপজেলার রাঙ্গীছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং চলছে। লিফলেট দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। কৃষকরাও নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

হাকালুকি হাওরের কৃষক সাজেন মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, `আমন ধান কাটা শুরু করেছি। লিফলেট পেয়েছি। ভাবছি খুব তাড়াতাড়ি নিবন্ধন করব। বোরো ধান বিক্রি করতে পারিনি। আমনে সুযোগ ছাড়ব না।' 

রাঙ্গীছড়ার কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, `আমার মতো অনেক কৃষকই নিবন্ধনের বিষয়ে আগ্রহী।' 

ধান সংগ্রহে অনিয়ম রোধে `কৃষকের অ্যাপের'  মাধ্যমে আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে থাকে খাদ্য বিভাগ। এ অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনে সরকার।

কুলাউড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিনয় কুমার দেব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, `আমাদের উপজেলা থেকে  ১ হাজার ১৫৭ মেট্রিক টন চাল কিনবে সরকার। প্রতি মণের দাম ১ হাজার ৮০টাকা। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রচার কাজ চলবে।' 

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, `কৃষকের অ্যাপে খুব সহজে নিবন্ধন করা যায়। এরপরও যদি কেউ সেটি করতে না পারেন, তাহলেও সমস্যা নেই। আমাদের জানালে আমরা করে দেবো।' 

কুলাউড়ায় এবার মোট ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, `এ পর্যন্ত ৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।' 

উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, `প্রান্তিক কৃষকরা মনে করেন, তাদের কেউ গুরুত্ব দেয় না। তাই তাদের সচেতন করতে আমাদের এ আয়োজন। কোনো প্রান্তিক কৃষক যেন বাদ না যান, সেজন্য আমরা আগেভাগেই প্রচার শুরু করেছি। কৃষকের অ্যাপের বিষয়ে প্রান্তিক কৃষকদের যেন সব রকম সহযোগিতা করা হয়, সে বিষয়ে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আজ দিনব্যাপী মিটিং করেছি আমরা।'