‘মুক্তবুদ্ধি, প্রগতিশীল লেখকদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল হামলার উদ্দেশ্য’
শিক্ষাবিদ, লেখক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা ধর্মীয় সন্ত্রাস রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার অধ্যাপক জাফর ইকবাল হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব এ কথা বলেন।
হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ে প্রধান আসামি মো. ফয়জুল হাসানের যাবজ্জীবন, আরেক আসামি মো. সোহাগ মিয়ার ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
পর্যবেক্ষণে বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব লেখেন, 'ইসলাম ধর্মের প্রকৃত মর্মবাণীকে না বুঝে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করাকে পুণ্যের কাজ মনে করে আসামি এই বর্বর হামলা চালিয়েছে। তার এমন কাজ নিঃসন্দেহে একটি সন্ত্রাসী কাজ। আরও সুস্পষ্টভাবে বললে ধর্মীয় সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু নয়।'
তিনি লেখেন, 'হামলার নৃশংসতা এবং বীভৎসতা দ্বারা যে সব লেখক মুক্তবুদ্ধি, প্রগতিশীলতা, বিজ্ঞান, সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কারের বিষয়ে লেখেন বা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে ভীতি, শঙ্কা ছড়িয়ে দেওয়াই তার মূল উদ্দেশ্য ছিল।'
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, 'শুধুমাত্র ভিকটিমের ভিন্নমত প্রকাশ, ভিন্নমত প্রকাশের জন্য এ দেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে ভিকটিমের উপর তার এমন কাজ কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা স্বাধীন মত প্রকাশ, পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্র, প্রগতিশীলতা তথা সভ্যতার অগ্রগতির প্রধান নির্ণায়ক। এগুলোর চর্চা নিশ্চিত করা না গেলে দেশ নিশ্চিতভাবেই পেছনের দিকে হাঁটবে। স্বাধীন ও গঠনমূলক ভিন্নমত চর্চার মাধ্যমেই সঠিকপথ পাওয়া সম্ভব।'
বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেয় এমন বিভিন্ন সাইট বা গ্রুপকে চিহ্নিত করে তাদের প্রচারিত তথ্যের প্রবাহ বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরও জোরালো ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি বলে পর্যবেক্ষণে বলেন।
মামলার রায় ঘোষণার পর আদালতের সরকারি কৌসুলি মুমিনুর রহমান টিটু বলেন, 'মাঝে দুই বছর অতিমারিতে নষ্ট হওয়ার পরও অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারসম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে যা সম্ভব হয়েছে বিচারকের সদিচ্ছায়। আমি মনে করি এই মামলার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে।'
তবে মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোতাহির আলী বলেন, 'চারজনকে খালাস প্রদান করায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে বাদী দুইজনের রায়ের বিষয়ে আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাব।'