শ্রীলঙ্কায় কারফিউ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

শ্রীলঙ্কায় কারফিউ উপেক্ষা করে বিক্ষোভরত শত শত শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। আজ রোববার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির একজন ফেডারেল আইনপ্রণেতা বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া জনসাধারণের ক্ষোভ দমনে আরোপিত কারফিউ কার্যকরে সেনা সদস্যরা রাজধানীতে চেকপোস্টগুলো পরিচালনা করছে।

শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্যান্ডির এমপি লক্ষ্মণ কিরিয়েলা বলেন, পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এই শিক্ষার্থীরা কারফিউ অমান্য করে বেরিয়ে এসেছে।

বিরোধী নেতা কিরিয়েলা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্যান্ডির উপকণ্ঠে অবস্থিত। যেখানে শিক্ষার্থীদের পুলিশ আটকে রেখেছিল।

এ প্রসঙ্গে ক্যান্ডির পুলিশ কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে চেয়েও কোনো সাড়া পায়নি রয়টার্স।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটি ক্রমবর্ধমান দাম, অত্যাবশ্যকীয় জিনিসের ঘাটতি এবং বিদ্যুতের উৎপাদন কমায় অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে। এরমধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতবায়া রাজাপাকসে শুক্রবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে শনিবার সরকার দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে।

সমালোচকরা বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ এই সংকটের মূলে আছে একের পর এক সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা।

২০১৯ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজাপাকসে কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কোভিড-১৯ মহামারির কয়েক মাস আগে এটি কার্যকর করেন। যা শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও সংকটে ফেলে।

রোববার রাজধানী কলম্বোতে প্রায় দুই ডজন বিরোধী দলীয় নেতা স্বাধীনতা স্কয়ারে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় কেউ কেউ 'গোটা (বায়া) গো হোম' বলে চিৎকার করছিল।

অতীতে জরুরি অবস্থায় সামরিক বাহিনীকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং আটক করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তকে, বর্তমানে কী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। রোববার কলম্বোতে অ্যাসল্ট রাইফেল এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সিনিয়র পুলিশ সুপার নিহাল থালদুওয়া বলেন, দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রশাসনিক বিভাগ ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সে কারফিউ লঙ্ঘনকারী ৬৬৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

শ্রীলংকায় অবস্থিত পশ্চিমা ও এশীয় কূটনীতিকরা বলেছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আশা করছেন সরকার নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দেবে।