প্রতিশ্রুতি রাখলে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ব্লিঙ্কেন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ সরকার যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, বিশেষ করে 'সন্ত্রাসবাদ' মোকাবিলা এবং মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সম্মান করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

আফগানিস্তানের টোলো নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যে কাজে আফগানিস্তানে গিয়েছিল তা সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে, এর মূল লক্ষ্য ছিল আল-কায়েদাকে দমন করা।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়াশিংটন 'সন্ত্রাস দমনে'র পাশাপাশি মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ কাবুল সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।

'আমি অবশ্যই বলব আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকে সাহসের সঙ্গে জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করেছে... কিন্তু, পুরো সংস্থাটিই ধসে পড়ে। এর সঙ্গে সরকারেরও পতন হয়,' যোগ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে পালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে কিনা অথবা তারা আগে থেকে বিষয়টি জানতো কিনা তা জানতে চাইলে ব্লিঙ্কেন 'না' উত্তর দেন।

তবে, পালানোর আগের রাতে গনির সঙ্গে ফোনে কথা হয় বলে জানান তিনি।

ব্লিঙ্কেন বলেন, 'তিনি পালিয়ে যাওয়ার আগের রাতে আমাকে বলেছিলেন, তিনি মরণপণ লড়াই করবেন। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে তিনি আফগানিস্তান ছেড়ে যান। সুতরাং, আমি অবশ্যই এ সম্পর্কে জানতাম না এবং আমরা অবশ্যই তার কাজটি সহজ করার জন্য কিছু করিনি।'

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গনি বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে যান বলে যে অভিযোগ আছে সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন।

নব গঠিত তালেবান সরকারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও এ সরকারের বৈধতার স্বীকৃতির বিষয়ে যেসব প্রশ্ন করা হয় সেগুলোর উত্তরে ব্লিঙ্কেন বলেন, 'তালেবানের কাজের ওপর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করবে।'

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'তালেবান বলছে, তারা আন্তর্জাতিক বৈধতা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন চায়। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে তাদের কার্যক্রমের ওপর। তারা কী বলে তার ওপর নয়। আমাদের এবং বাকি বিশ্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের গতিপথ তাদের কাজের ওপর নির্ভর করবে।'