তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে গাঁজার বাম্পার ফলন
আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশটির অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয় নতুন তালেবান সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও দৃশ্যপট একবিন্দু পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
এএফপি'র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত আগস্টে ক্ষমতায় এলেও এখন পর্যন্ত গোলাম আলীর মতো গাঁজা চাষিদের বিষয়ে তালেবানের সিদ্ধান্তের কিছুই পরিবর্তন হয়নি। কারণ কান্দাহারের বাইরে ৮ একর জমিতে তার চাষকৃত গাঁজা এখনও বহাল তবিয়তে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।
গোলাম আলীর গাঁজা খেতটি কান্দাহারের উত্তর-পূর্ব দিকে পাঞ্জওয়াই জেলার প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত।
তিনি এএফপিকে বলেন, 'অন্য যেকোনো ফসল বা ফলের তুলনায় আমরা এর থেকে বেশি উপকৃত হই।'
'আমি অন্য কিছুও চাষ করতে পারতাম, কিন্তু পপি গাছকে রোগ থেকে বাঁচাতে আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ ও রাসায়নিকের দরকার হয়', যোগ করেন তিনি।
মার্কিন সমর্থিত সরকারের আমলে আফগান হাশিশ চাষিরা প্রতি কেজির জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের ৩ হাজার পাকিস্তানি রুপি শুল্ক প্রদান করতেন।
গোলাম আলী বলেন, 'এটা অফিসিয়াল কিছুই ছিল না, আমাদের শুধু ট্যাক্স দিতে হয়েছিল। না হলে তারা আমাদের বাগান ধ্বংস করে দিত।'
২০০০ সালে তৎকালীন তালেবান শাসন অবসানের কিছুদিন আগে গোলাম আলীর পরিবার তাদের ভুট্টা খেতে গাঁজার চাষ শুরু করে এবং এজন্য তারা অনুতপ্ত নন বলেও জানান তিনি।
একটি মাটির তৈরি ঘরে তারা ২০ জন আত্মীয় একসঙ্গে বসবাস করেন। তারা ধনী নন, কিন্তু তাদের শিশুরা স্কুলে যায় এবং গ্রামীণ আফগান মান অনুযায়ী তারা যথেষ্ট সুখী।
এমনকি ফসল ঘরে তোলার সময় তারা বাইরের শ্রমিকও নিয়োগ দেন।
গোলাম আলী জানান, বিক্রি ও রপ্তানির জন্য আগামী মাসে তাদের চাষকৃত গাঁজা গাছ থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কালো-সবুজ হাশিশ পেস্ট তৈরি করা হবে। পরে হাশিশের পেস্ট চোরাকারবারীদের কাছে প্রতি কেজি ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার রুপি দরে বিক্রি করা হবে।
তবে আলী জানেন যে, চোরাকারবারীরা সেগুলো দ্বিগুণ দামে ইরান, পাকিস্তান অথবা ভারতে বিক্রি করবে। তারপরও তিনি প্রতি কেজিতে ৩ হাজার রুপি লাভের প্রত্যাশা করছেন।
এতদসত্ত্বেও তালেবান (একসময় এই অঞ্চলে ছায়া বাহিনী এবং এখন স্থানীয় প্রশাসন) আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করে আসছে।
তালেবান আমিরাতের অধীনস্থ কান্দাহারের একজন মোল্লা এবং গভর্নর ইউসেফ ওয়াফা এএফপিকে জানান, তার লোকেরা গত ১ মাসে অন্তত ১ হাজার মাদকাসক্তকে গ্রেপ্তার করেছেন।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমরা পপি ও হাশিশ উৎপাদনকে শূন্যে নামিয়ে আনা এবং এগুলোর বিক্রেতা ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে জনসাধারণকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি।'
'আমরা কৃষকদের এসব চাষাবাদ বাড়াতে দেব না', যোগ করেন তিনি।
তবে তালেবানের পরিকল্পনা যাই হোক না কেন, আলী তার ফসল নিয়ে বেশ আশাবাদী।
কারণ তালেবানের বিজয় তাদের দ্বিগুণ ট্যাক্স দেওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কেননা এর আগে বিদ্রোহী ও তৎকালীন সরকার- উভয়েই তাদের লাভের একাংশ নিয়ে নিতো।
তালেবানদের উদ্দেশ্য করে আলী এএফপিকে আরও বলেন, 'তারা রাস্তার ওপারেই আছে। কিন্তু এখন আর তারা আমাদের কাছে কিছুই চায় না।'