সমাবর্তনের অপেক্ষায় জবির ২০ হাজার শিক্ষার্থী
গাউন ও ক্যাপ পরে আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনের মাধ্যমে সনদ গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হাজারো সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর কাছে সেই স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন আরেকটি সমাবর্তনের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবাসন ও জায়গা সংকটের কারণে নিয়মিত সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারেনি জবি প্রশাসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৬টি বিভাগের ১৮ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এরপর ছয় বছর পার হলেও দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সূত্র আরও জানায়, পরবর্তী সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে অন্তত ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
সমাবর্তন না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রবিউল শেখ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সমাবর্তনের মাধ্যমে সনদ গ্রহণ করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। পেশাজীবনে প্রবেশ করলেও এখনো সেই স্বপ্ন ধরে রেখেছি। বর্তমান প্রশাসন দ্রুত সমাবর্তনের আয়োজন করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিদায় জানাবে বলে আশা করি।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম আজাদ বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছর সমাবর্তনের আয়োজন করে, অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত সমাবর্তন হয়। অথচ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জবিতে মাত্র একটি সমাবর্তন হয়েছে। আগের প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগের অভাবেই আমরা এখনো অপেক্ষায় দিন পার করছি।’
জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘সমাবর্তন যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন। প্রথম সমাবর্তনের পর আর কোনো সমাবর্তন হয়নি। অথচ, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন মতামত থাকলেও নতুন সরকার গঠনের পর বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
‘আগামী একাডেমিক কাউন্সিল সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। পরে আচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাবর্তনের আয়োজনের বিষয়ে পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে’, যোগ করেন তিনি।