নোবিপ্রবিতে সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, ভেঙে দেওয়া হলো কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে ২ সাংবাদিকসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়। পরে সালাম হল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়।

অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাতের সংঘর্ষের জেরে আজ দুপুরে ক্যাম্পাসে আবার দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সেসময় একদল বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে সাব্বিরের পক্ষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ২ সাংবাদিকসহ ৭ জন আহত হন।

আহতরা হলেন—১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামিম হোসেন, জাহিদুল ইসলাম হাসান, ১৭তম ব্যাচের সোহাগ চাকমা, মাহমুদুল হাসান অন্তর, কাইফ হাসান, ১৮তম ব্যাচের জহির হোসেন, আনিছুর রহমান সিফাত ও ১৯তম ব্যাচের সামিউল ইসলাম।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাজিব আহমেদ চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ক্যাম্পাসে মারামারি ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী ও এক বহিরাগত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।'

সংঘর্ষের ঘটনায় বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বলে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল সভাপতি এবিএস রাসেল নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনা নিয়ে সদ্য ভেঙে দেওয়া কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতরাতে নোবিপ্রবির মালেক হলের একটা সিটকে কেন্দ্র করে আনিসুর রহমান সিফাত ও রাশেদ নামে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। রাতেই আমরা দুপক্ষকে থামিয়ে প্রক্টর স্যারের উপস্থিতিতে বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছিলাম। এর সূত্র ধরে আজ দুপুরে সিফাত বহিরাগতদের নিয়ে এসে কয়েকজনের ওপর হামলা করে।'

কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই সন্ধ্যায় নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়। যদি তদন্তের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করে কমিটি পুনর্বহাল করে আমরা দায়িত্ব পালন করব। তবে সংগঠনের সিদ্ধান্ত ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।'

নোবিপ্রবি সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ আগস্ট রাতে ও ১৮ আগস্ট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। এ ঘটনায় ৮-১০ জন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের একটি দল ক্যাম্পাসে রয়েছে।'

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, 'হলের সিট পরিবর্তন নিয়ে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।'