যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভিসা না দেয়ার অভিযোগ ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধানের

স্পোর্টস ডেস্ক

ফিফার পূর্ণ সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব। 

আরেক আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সশরীরে উপস্থিত থেকে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলা উপভোগ করলেও রাজৌবকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়া হয়নি। এ ঘটনাকে ‘অন্যায্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রাজৌব। 

দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী ফিফা প্রতি বিশ্বকাপেই তার সদস্য দেশগুলোর বোর্ড প্রধানকে স্বাগতিক দেশে বিশ্বকাপ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানায়। ফিলিস্তিন দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করতে না পারলেও সেই সুবাদেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল রাজৌবের। 

যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে গত বছর ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসা পরবর্তীতে বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। 

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত বছর বলেছিলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। আমরা সে বিষয়ে কাজ করছি’। তবে সম্প্রতি ইনফান্তিনো বলেছেন, ফিফা চাইলেই স্বাগতিক দেশের সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারে না। 

এর আগে গত মাসেই ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমানের পাশে দাঁড়াতে ও করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন রাজৌব। 

রাজৌব তখন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ‘আমার জায়গা থেকে আমি এখনও আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করি এবং মেনে চলি। তবে আমি মনে করি, এখন এটা বোঝার সময় এসেছে যে, ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। ফিফার এই দ্বিমুখী নীতি বন্ধ হতে হবে। আমি হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। খেলাধুলা খেলাধুলাই... আমার কাছে এটিকে সম্মান করা উচিত। কিন্তু অপর পক্ষ যদি বিবির (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং তার পক্ষে এমনভাবে কথা বলে যেন, সে একজন মাদার তেরেসা, তবে এমন একজন মানুষের সাথে আমি কীভাবে হাত মেলাতে পারি বা ছবি তুলতে পারি?’