২০২৬ সালের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসব বাংলাদেশে: কমনওয়েলথ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিশ্বব্যাপী ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অনুশীলন হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা কমনওয়েলথ।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার এবং ৭৮ জন নারীসহ মোট ২,০২৬ জন প্রার্থীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন একটি অন্যন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। 

সব মিলিয়ে এ নির্বাচন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারপারসন ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডডো ঢাকা- ৮ আসনের ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, ভোটকেন্দ্র খোলা থেকে শুরু করে ফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে কমনওয়েলথ দল।

তিনি বলেন, ‘এত বড় পরিসরে প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি এবং একই সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোটের আয়োজন একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।’
এ আয়োজনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন নানা আকুফো-আডডো। 

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সারাদেশে নীরব উত্তেজনা ও প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছিল।

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই নীরব প্রত্যাশা রূপ নেয় ভোটারদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণে। নাগরিকরা কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করতে থাকেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।

বিবৃতিতে হবিগঞ্জ–৩ আসনের নতুন ভোটার ১৯ বছর বয়সী যুধিষ্ঠির বিশ্বাসের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই মুহূর্তটি আমার কাছে গভীরভাবে অর্থবহ। প্রথমবার জাতীয় সিদ্ধান্তে আমার মতামতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল।’ 

ভোটের দুই দিন আগে থেকেই দেশের আটটি বিভাগে অবস্থান নেয় ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল।

স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সংস্থাটি।