ঈদে হোম অফিস, ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর উপায়
আর মাত্র একদিন পরই শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন আর লঞ্চঘাটে এখন ঘরমুখো মানুষের ভিড়। কেউ গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ব্যাগ গুছাচ্ছেন, কেউ শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত। তবে অনেকের জন্য এবারের ঈদেও পুরোপুরি ছুটি নেই। অফিসের ল্যাপটপও যাচ্ছে সঙ্গে। কারণ ছুটির মধ্যেও করতে হবে হোম অফিস।
কিন্তু গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় ইন্টারনেট নিয়ে। ভিডিও কলে কথা বলতে গেলেই নেটওয়ার্ক কেটে যায়, ফাইল আপলোড হতে চায় না, আবার কখনো মিটিংয়ের মাঝেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব।
ভিডিও মিটিংয়ের সময় বদলে নেওয়া
সাধারণত অফিসের বেশিরভাগ ভিডিও মিটিং সকাল ৯টা বা ১০টার দিকে শুরু হয়। এ সময় একসঙ্গে অনেক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করায় নেটওয়ার্কের ওপর চাপ পড়ে। ফলে ভিডিও কলের মান খারাপ হতে পারে। সম্ভব হলে মিটিং ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে বা পরে করার চেষ্টা করুন। ছোট এই পরিবর্তনে ইন্টারনেট সংযোগ অনেক সময় স্থিতিশীল থাকে।
বড় ফাইল ডাউনলোড বা আপডেট করুন রাতে
কম্পিউটার বা মোবাইলের সফটওয়্যার আপডেটে অনেক ইন্টারনেট খরচ হয়। দিনের ব্যস্ত সময়ে এগুলো চালু থাকলে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই বড় ফাইল ডাউনলোড বা সফটওয়্যার আপডেট রাতের জন্য রেখে দিন। তখন সাধারণত ইন্টারনেট ব্যবহার কম থাকে, ফলে কাজও দ্রুত হয়।
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন রাখা
আপনি হয়তো ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছেন, কিন্তু একই সময়ে ঘরের অন্য ডিভাইসগুলোও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। স্মার্ট টিভি, মোবাইল ফোন, গেম কনসোল—এসব ডিভাইস অনেক সময় অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে আপডেট ডাউনলোড করে। তাই যেসব ডিভাইস ব্যবহার করছে না, সেগুলো ওয়াইফাই থেকে বন্ধ বা বিচ্ছিন্ন রাখুন। এতে ইন্টারনেটের ওপর চাপ কমবে।
রাউটারের সুবিধাগুলো কাজে লাগানো
অনেক আধুনিক রাউটারে এমন সুবিধা থাকে, যেখানে নির্দিষ্ট ডিভাইসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যায়। যেমন—অফিসের ল্যাপটপকে অগ্রাধিকার দিলে ভিডিও কলের সময় ভালো সংযোগ পাওয়া যেতে পারে।
আর যদি আপনার রাউটার ২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ—দুই ধরনের নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে, তাহলে কাছাকাছি বসে কাজ করার সময় ৫ গিগাহার্জ ব্যবহার করুন। এটি সাধারণত বেশি দ্রুতগতির হয়।
রাউটার খোলা জায়গায় রাখা
অনেকেই রাউটার টেবিলের নিচে, আলমারির পাশে বা শোকেসের পেছনে লুকিয়ে রাখেন। এতে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়। দেওয়াল, দরজা বা ভারী আসবাবপত্র রাউটারের সিগন্যাল আটকে দিতে পারে। তাই রাউটার এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে চারপাশ খোলা থাকে।
প্রয়োজন হলে নতুন রাউটার
পুরোনো রাউটার একসঙ্গে অনেক ডিভাইসের চাপ সামলাতে পারে না। বাসায় যদি কয়েকজন একসঙ্গে অনলাইনে থাকেন, তাহলে ভালো মানের নতুন রাউটার ব্যবহার করলে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে বড় বাসায় নতুন রাউটার সিগন্যাল ভালো দেয় এবং অনেক জায়গার নেটওয়ার্ক সমস্যা কমায়।
সম্ভব হলে তারযুক্ত সংযোগ ব্যবহার
ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সহজ হলেও তারযুক্ত ইন্টারনেট সাধারণত বেশি স্থিতিশীল হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও মিটিং বা জরুরি অনলাইন কাজের সময় ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করলে সংযোগ ভালো পাওয়া যায় এবং ভিডিও কল কম কেটে যায়।
প্রয়োজন বুঝে প্যাকেজ পরিবর্তন
সব চেষ্টা করার পরও যদি ইন্টারনেটের গতি ভালো না হয়, তাহলে হয়তো দ্রুতগতির প্যাকেজ নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। তবে বিজ্ঞাপনে যে গতি দেখানো হয়, বাস্তবে সবসময় তা পাওয়া যায় না। তাই নতুন প্যাকেজ নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
বাসা থেকে কাজ করা এখন অনেকের নিয়মিত অংশ হয়ে গেছে। তাই একটু পরিকল্পনা করে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ঈদের ছুটিতেও হোম অফিসের কাজ অনেক সহজে করা সম্ভব।
সূত্র: টাইম ডটকম