টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

সেমিতেও মার্করামের মন্ত্র ‘রোমাঞ্চকর ক্রিকেটের প্রতিফলন’

স্পোর্টস ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকা আর আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল—এই দুইয়ের সমীকরণ মেলাতে গেলেই ক্রিকেটভক্তদের মনে উঁকি দেয় পুরনো সব ট্র্যাজেডি। কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিত্রনাট্যটা যেন একটু ভিন্নভাবে লিখছেন এইডেন মার্করাম। টানা সাত জয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা প্রোটিয়ারা বুধবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে যখন নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, তাদের সঙ্গী হিসেবে থাকছে এক নতুন দর্শন: ‘রোমাঞ্চকর ক্রিকেটের প্রতিফলন’।

গত আসরের রানার্স-আপ দলটি এবার বিধ্বংসী ফর্মে। শেষ ১৬টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচের ১৫টিতেই জয়—এমন দাপুটে পরিসংখ্যান পাশে নিয়েই কিউইদের সামনে দাঁড়াচ্ছে তারা। তবে মার্করামের ভাবনাজুড়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই, বরং আছে সাহসের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার তাড়না।

সেমিফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মার্করামের কণ্ঠে ফুটে উঠল সেই আত্মবিশ্বাস, ‘ফেভারিট তকমা নিয়ে একেকজনের একেক মত থাকতে পারে। তবে দল হিসেবে আমরা গত ১৮ মাস ধরে যে রোমাঞ্চকর ঘরানার ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছি, কালকের ম্যাচেও সেটিরই প্রতিফলন ঘটাতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে পারলে সেটি যেমন দর্শকদের জন্য বিনোদনমূলক হবে, তেমনি আমাদেরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে।’

আহমেদাবাদে গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে মার্করাম সেই সহজ জয় নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন। তাঁর মতে, ‘ক্রিকেট যদি অতটাই সহজ হতো! নিউজিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে আসছে। গ্রুপ পর্বের পর দুই দলই অনেক ক্রিকেট খেলেছে, তাই আগামীকাল আমাদের একদম নতুন করে শুরু করতে হবে।’

এবারের আসরে প্রোটিয়াদের শক্তির বড় জায়গা তাদের অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে কুইন্টন ডি ককের মতো ক্রিকেটার উইকেটের পেছন থেকে কন্ডিশন পড়তে পারাটা মার্করামের জন্য বড় স্বস্তির। অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুকে জটিল করতে চাই না। দ্রুত কন্ডিশন বুঝে নিয়ে নিজেদের গেমপ্ল্যানের ওপর আস্থা রাখাই আমাদের মূল কাজ।’

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এর আগে কখনও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ঐতিহাসিক এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে মার্করামের দল কি পারবে তাদের সেই ‘রোমাঞ্চকর’ জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে ফাইনালের টিকিট কাটতে? উত্তর মিলবে বুধবার রাতেই।