বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের
বিশ্বকাপের স্বত্ব বা মালিকানার অংশীদারি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী সংস্থাগুলো। ফিফার এমন বাণিজ্যিক চালের প্রতিবাদে একাট্টা হয়ে বিশ্বকাপসহ ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব টুর্নামেন্ট বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা।
বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ একযোগে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেয়। ফুটবলের ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ থেকে উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফুটবল কিংবা বিশ্বকাপ কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। তাই কোনো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীর কাছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সঁপে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
উয়েফার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফিফা যতক্ষণ না এই নীতিহীন প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি বাতিল করছে এবং ভবিষ্যতে কখনো ফুটবলের মালিকানা ব্যক্তিগত খাতে হস্তান্তর করা হবে না বলে আইনি নিশ্চয়তা দিচ্ছে, ততক্ষণ উয়েফার কোনো দল ফিফার আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে পা রাখবে না।’
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে ফুটবলের প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর শেয়ার বিক্রির যে ছক কষেছিলেন, তাতেই এই অগ্নিকুণ্ড তৈরি হয়েছে। ফুটবলকে ব্যবসার সামগ্রী বানানোর এই একতরফা চেষ্টা বিশ্ব ফুটবলের সুশাসন ও কাঠামোর ওপর বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।
ঝড় উঠেছে এশিয়াতেও। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা এক চিঠিতে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানান, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শই করা হয়নি। সব কটি কনফেডারেশনের ঐকমত্য ছাড়া এমন প্রস্তাব কখনোই পাশ হতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ফিফার এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোকে বাগে আনতে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভনও দেখাচ্ছে ফিফা। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তাব মেনে নিলে প্রতিটি ফুটবল সংস্থাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার এই 'টোপে' পা দিতে নারাজ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রোসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক খেলোয়াড় ইউনিয়ন। তাদের স্পষ্ট বার্তা—যাদের রক্ত-ঘামে খেলাটি টিকে আছে, সেই খেলোয়াড় ও দর্শকদের আবেগ এড়িয়ে খেলাটিকে বেচে দেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
সব মিলিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার যৌথ প্রতিরোধে ফিফা এখন এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংকটের মুখোমুখি।