‘আর্জেন্টিনার জন্যই সাজানো ছিল বিশ্বকাপ’—ক্ষোভে ফুঁসছেন জিকো
৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল রেফারিং বিতর্ক। পরাজয়ের পর ক্ষোভ ঝাড়লেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিকো বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, 'বিশ্বকাপ জেতার জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন। টুর্নামেন্টটা আগেই সাজানো ছিল, তাদের আর কিছুই দরকার ছিল না। রেফারি ছিলেন অন্যায্য, অন্যায্য, অন্যায্য, অন্যায্য।'
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
অবশ্য ম্যাচ শেষে দলের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন জয়সূচক গোলের নায়ক এঞ্জো ফার্নান্দেজ, 'আমাদের দলটা অসাধারণ। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। কাতার বিশ্বকাপের চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপ খেলতে এসেছি এবং আবারও শিরোপা জিততে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।'
তবে মিশরের ক্ষোভের মূল কারণ ম্যাচের বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে অনেক দূরে সংঘটিত একটি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের দাবি জানায় মিশর। তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনাটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনাই করা হয়নি। এই দুই সিদ্ধান্তে মিশর শিবির তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দলটি।
মূলত ম্যাচের শেষদিকে তাদের ২-০ ব্যবধানের লিড ধরে রাখতে না পারাই শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবু ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। তাদের বিশ্বাস, রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।
অন্যদিকে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এখন কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।